স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশ ফিনল্যান্ড বর্তমানে শ্রমিক সংকটের মুখে। বিভিন্ন শিল্পে অভিজ্ঞ এবং অল্প অভিজ্ঞ বিদেশি কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। তবুও কঠোর শর্ত এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে আগ্রহীরা সহজে সুযোগ পান না। ফিনল্যান্ডে স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, প্রযুক্তি ও শিল্পখাতের মধ্যে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীর, এবং অভ্যন্তরীণ শ্রম বাজারে অনেক পেশায় লোকের অভাব রয়েছে।
২০২৩ সালে ফিনল্যান্ডে কর্মী প্রয়োজনীয়তার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪২ হাজার।কিছু সেক্টরে শূন্যপদ বেড়ে গেছে, বিশেষ করে নার্সিং, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আইটি খাতে। বর্তমানে দেশটিতে স্থানীয় শিক্ষিত কর্মী সংখ্যা সংকুচিত, তাই বৈদেশিক শ্রমিক অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। ফলে, সরকার বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করছে। তবে শর্তগুলো কঠিন হওয়ায় আবেদনকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।
বিদেশি কর্মী হিসেবে ফিনল্যান্ডে অবস্থানের জন্য প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে প্রথমত ন্যূনতম মাসিক বেতন। ২০২৫ সালের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর বেতন হতে হবে কমপক্ষে ১ হাজার ৬০০ ইউরো।এটি ফিনল্যান্ডে জীবনযাত্রার খরচ অনুযায়ী নির্ধারিত।প্রমাণ দিতে হবে যে, এই বেতন যথাযথভাবে নিশ্চিত হবে।
দ্বিতীয়ত, চাকরির প্রস্তাব থাকা বাধ্যতামূলক। রেসিডেন্স পারমিট পেতে আগে থেকে ফিনল্যান্ডের নিয়োগকর্তার চাকরির অফার থাকতে হবে, এটি দেশীয় শ্রম বাজারে অযাচিত চাপ কমানোর জন্য।
এছাড়া, অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হিসেবে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্য জমা দিতে হবে।
ফিনল্যান্ডে কাজের জন্য বিভিন্ন অনুমতি রয়েছে। এরমধ্যে, স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি চাকরির জন্য, অভিজ্ঞ বা দক্ষ কর্মী, সীমিত সময়ের (৯০ দিন পর্যন্ত) সিজনাল কাজের জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদি অনুমতি, চাকরি হারালে সীমিত সময়ের মধ্যে নতুন কাজ না পেলে তা বাতিল করা হয়।সিজনাল কাজের জন্যও আবেদনকারীর অবশ্যই নিয়োগপত্র ও ন্যূনতম বেতন প্রমাণ করতে হয়।
২০২৩ সালে ৪২ হাজার ২০০ জনকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, ২০২৪ সালে সংখ্যা কিছুটা কমেছে, এছাড়া কঠোর আইনি মূল্যায়ন ও শ্রম বাজারের পরীক্ষা মঞ্জুরি হারকে প্রভাবিত করছে। ফিনল্যান্ডে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক অনুমতি নির্দেশিকা অনুযায়ী, চাকরি হারালে পারমিট সীমিত সময়ের মধ্যে বাতিল হতে পারে।
ন্যূনতম মাসিক বেতন ও চাকরির শর্ত পূরণ না হলে পারমিট বাতিল, আবেদন প্রক্রিয়া জটিল, অনলাইনে ও দূতাবাসে বিভিন্ন ধাপ এবং চাকরি হারালে পুনর্ব্যবস্থা না হলে দেশে ফেরার চাপের ঝুঁকি রয়েছে। তবে সুবিধাও কম নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নে চলাফেরা, উচ্চ জীবনমান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা এবং শ্রমিক অধিকার সুরক্ষিত থাকা।
শর্ত কঠোর হলেও ফিনল্যান্ড বিদেশি শ্রমিক আকৃষ্ট করতে চাইছে। বিশেষ করে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন কর্মী বা শ্রম বাজারে লোক নেই এমন পেশায়। স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাত বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে, দক্ষ শ্রমিকদের জন্য জীবনযাত্রা ও বেতন মান প্রতিযোগিতামূলক এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মী নীতি সামঞ্জস্যপূর্ণ।ফিনল্যান্ডে বিদেশি কর্মীর চাহিদা বেড়েছে, তবে উচ্চ বেতন প্রমাণ, চাকরি অফার থাকা, কঠোর আইনি নিয়ম পূরণ করতে হবে। যারা প্রস্তুত, তাদের জন্য সুযোগ রয়েছে, তবে প্রতিটি ধাপ সাবধানতার সঙ্গে নেওয়া আবশ্যক।


