২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ইতালি থেকে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যাংক অফ ইতালির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ ৬.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর শেষে ইতালি থেকে পাঠানো মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৯ বিলিয়ন ইউরো স্পর্শ করবে বলে ধারণা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ইতালিতে বসবাসরত বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মধ্যে রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে সব দেশকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিরা বছরে সর্বোচ্চ ১.৪ বিলিয়ন ইউরো দেশে পাঠিয়েছেন।
রেমিট্যান্স পাঠানোর এই তালিকায় বাংলাদেশের পরেই অবস্থান করছে পাকিস্তান, মরক্কো, ফিলিপাইন এবং ভারত। তবে পরিমাণের দিক থেকে বাংলাদেশিদের অবদান এখন পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০৫ সালের তুলনায় ইতালি থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বর্তমানে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। দুই দশক আগে প্রবাসীদের সংখ্যা এবং উপার্জনের সুযোগ সীমিত থাকলেও বর্তমানে ইতালির মূল অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অনেক বেড়েছে, যার প্রতিফলন ঘটছে এই রেমিট্যান্স প্রবাহে।
ইতালির শিল্প ও বাণিজ্যিক শহরগুলো থেকেই মূলত সবচেয়ে বেশি অর্থ বাইরে যাচ্ছে। মেট্রোপলিটন এলাকা রোম রোম থেকে সর্বোচ্চ ১.১ বিলিয়ন ইউরো বিদেশে পাঠানো হয়েছে। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিলান থেকে পাঠানো হয়েছে ৯০০ মিলিয়ন ইউরো।
রেমিট্যান্সের মোট অংক বাড়লেও মাথাপিছু অর্থ পাঠানোর হার কিছুটা কমেছে। আগে যেখানে একজন প্রবাসী গড়ে বছরে ১ হাজার ৭১৯ ইউরো দেশে পাঠাতেন, বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ৫৭৭ ইউরোতে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রধান কারণ হলো ‘ফ্যামিলি রিইউনিয়ন’ বা পারিবারিক পুনর্মিলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী তাদের পরিবারকে ইতালিতে নিয়ে এসেছেন। ফলে, ইতালিতেই প্রবাসীদের আবাসন, খাদ্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। পরিবার সাথে থাকায় দেশে টাকা পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা বা সামর্থ্য উভয়ই কিছুটা সংকুচিত হয়েছে।
ইতালির অর্থনীতিতে প্রবাসীদের শ্রম এবং বাংলাদেশে পাঠানো তাদের এই রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবার ইতালিতে থিতু হওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে মাথাপিছু রেমিট্যান্সে আরও প্রভাব ফেলতে পারে।


