ইতালির ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেটে একটি নতুন সংশোধনী পাস হয়েছে, যার ফলে বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীরা যারা দেশে টাকা পাঠান (রেমিট্যান্স), তা আর শুধু রেমিট্যান্স হিসেবে বিবেচিত হবে না—এটি ইতালির সমমান আর্থিক পরিস্থিতি সূচক বা পারিবারিক আয়ের হিসাবেও অন্তর্ভুক্ত হবে।
এই সিদ্ধান্ত ইতালির সমাজ-অর্থনৈতিক কাঠামোতে একটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত কম আয়ের প্রবাসী পরিবার ও তাদের পরিবারগুলোকে সুবিধা পাওয়া বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে। ইতালির রাজনৈতিক দল ‘ফ্রাতেল্লি দে ইতালি’(এফডিআই)–এর প্রস্তাবিত এই আইনের কারণে, প্রবাসীদের মানি ট্রান্সফার এখন তাদের পারিবারিক আয়ের সূচকে যুক্ত হবে। অর্থাৎ, যে টাকা তারা ইতালির বাইরে থেকে পাঠান, সেটা তাদের সম্পদ বা আয়ের অংশ হিসেবে ধরা হবে।
এর আগে এমন কোনো নিয়ম ছিল না, ফলে কম আয়ের প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো সত্ত্বেও সরকারের কিছু বোনাস বা সুবিধা পেতেন (যেমন: শিশুসহায়তা, অন্তর্ভুক্তি বোনাস ইত্যাদি)। নতুন নিয়মে তাদের সমমান আর্থিক পরিস্থিতি বেড়ে যাবে, যার ফলে অনেকেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। সুতরাং, প্রবাসীদের পাঠানো টাকা এখন পরিবারিক আয়ের সমমুল্য সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।
ইতালির কেন্দ্রীয় ব্যাংক–এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী…
এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স প্রাপ্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১৭.৯ শতাংশ। এই নতুন নীতি বিশেষভাবে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
এতে স্পষ্ট যে ইতালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে টাকা পাঠাচ্ছেন এবং এখন এই নিয়ম তাদের আর্থিক পরিস্থিতি সুচকে বড় ভূমিকা রাখবে। সমমান আর্থিক পরিস্থিতি সূচক হলো, ইতালিতে পরিবারের আর্থিক অবস্থার একটি সরকারি সূচক, যার ভিত্তিতে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সহায়তা, বোনাস ও সরকারি সুবিধা (যেমন: শিশু সহায়তা, অন্তর্ভুক্তি বোনাস, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ছাড়) নির্ধারণ করা হয়।
আইনের পক্ষে যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতালির বাইরে বছরে প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরো রেমিট্যান্স পাঠানো হচ্ছে, যা আগে পারিবারিক আয়ের হিসাবের বাইরে ছিল। সরকারের মতে, এটি একটি সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল—যা এই সংশোধনীতে কমানো হবে এবং সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে প্রাপ্যদের মধ্যে বণ্টিত হবে। সিনেটর ফ্রান্সেসকা টুবেত্তির মতে…
এই পরিবর্তন সামাজিক সাম্যের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ছিল, কারণ আগে অনেক লোক আর্থিক পরিস্থিতি সুচক কম দেখানোর জন্য রেমিট্যান্সকে সম্পদ হিসেবে দেখাত না।
নতুন নিয়মে সরকারি সুবিধা কমে যাওয়ার ঝুঁকি, যেমন শিশুসহয়তা ও অন্তর্ভুক্তি বোনাস, সামাজিক সহায়তা ও কর্মসংস্থান সহায়তা এবং শিক্ষা, ট্রেনিং ও ব্যয়সাহায্যেরর উপর প্রভাব পড়তে পারে। রেমিট্যান্সের দিক দিয়ে বিশেষভাবে বলা হচ্ছে যে, রোম ও লোম্বার্ডি এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো হয়, কারণ এই অঞ্চলগুলোতে প্রবাসী বসবাসের ঘনত্ব বেশি।
প্রবাসীদের পাঠানো টাকা পরিবারিক আয়ের অংশ হিসেবে গণ্য করবে এবং এই বদলায় অনেক পরিবার সরকারি সহায়তার যোগ্যতা হারাতে পারে। ব্যবসায়ী ও প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতোমধ্যেই এর বিরোধিতা শুরু হয়েছে, কারণ এটি রেমিট্যান্সের মাধ্যমে পরিবারিক সুরক্ষা ও সুবিধা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্যদিকে, সরকার মনে করছে এটি সামাজিক সুবিচার ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


