পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে জনসমাগমজনিত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের রাতের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে জনসমক্ষে মদ্যপান ও মদ বিক্রির ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। লিসবন সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে…
শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতভর উচ্চ শব্দ, বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগের অভিযোগ বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, লিসবনের জনসাধারণের স্থান, যেমন রাস্তা, স্কয়ার ও খোলা জায়গায়, নির্দিষ্ট সময়ের পর মদ বিক্রি ও মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হবে। সিটি কাউন্সিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রোববার থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর, এবং শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির আগের দিন রাত ১২টার পর জনসমক্ষে মদ বিক্রি ও সেবন বন্ধ থাকবে।
এই বিধিনিষেধ মূলত বার, রেস্তোরাঁ ও পানীয় বিক্রির দোকানের বাইরে মদ্যপান নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেবে। তবে অভ্যন্তরে (ইন্ডোর) লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত নিয়ম মেনে ব্যবসা চালু রাখা যাবে।
লিসবনের মেয়র কার্লোস মোইদাস বলেন…
শহরের প্রাণবন্ত নাইটলাইফ বজায় রাখা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি এখানকার স্থায়ী বাসিন্দাদের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনের অধিকার রক্ষা করাও আমাদের দায়িত্ব।
তিনি আরও জানান…
অতিরিক্ত শব্দ, মাতালদের বিশৃঙ্খলা ও রাতভর হট্টগোলের কারণে বহু আবাসিক এলাকা কার্যত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে উঠছে।
নতুন নিয়ম লঙ্ঘন করলে ব্যক্তিদের জন্য উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আরও কঠোর আর্থিক শাস্তির বিধান রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে বারবার নিয়ম ভাঙলে লাইসেন্স বাতিলের ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। এসব নিয়ম বাস্তবায়নে পৌর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দায়িত্ব পালন করবে।
শহর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগ পর্যটনবিরোধী নয়; বরং টেকসই পর্যটন ও বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলার অংশ। ইউরোপের বার্সেলোনা, আমস্টারডাম ও প্যারিসের মতো শহরেও ইতোমধ্যে একই ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে।
তবে ব্যবসায়ী ও নাইটলাইফ সংশ্লিষ্ট কিছু সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এ সিদ্ধান্তে ছোট বার ও দোকানগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে মেয়র বলেন…
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খোঁজা হবে।
সিটি কাউন্সিলের বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে শিগগিরই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এর ফলে লিসবনে রাতের শব্দদূষণ কমবে, নাগরিকদের বিশ্রাম নিশ্চিত হবে এবং শহরের জীবনমান আরও উন্নত হবে।


