অনিয়মিত অভিবাসন ও অবৈধভাবে কাজ করার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করতে টিকটককে নতুন মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।‘ সিকিউর বর্ডার্স ইউকে’ নামে একটি অফিসিয়াল টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলে গ্রেপ্তার, অভিযান ও বহিষ্কারের ভিডিও প্রচার শুরু করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি চালু হওয়া এই অ্যাকাউন্টে ব্রিটিশ হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট টিমের বিভিন্ন অভিযানের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। ভিডিওগুলোর সঙ্গে বার্তা দেওয়া হচ্ছে, অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার করা হবে। এক ভিডিওতে বলা হয়, “আর এটি কেবল শুরু।”
প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি ১৪ হাজারের বেশি ফলোয়ার অর্জন করে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি দেখা একটি ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও ভিউ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার বার। সরকারের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠন ফ্রিডম ফ্রম টর্চার। সংস্থাটি বলছে, সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট ভয় ও বিভাজন তৈরি করছে। এদিকে সরকার জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লেবার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ইমিগ্রেশন অভিযানের সংখ্যা ৭৭ শতাংশ এবং অবৈধভাবে কাজ করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৮৩ শতাংশ বেড়েছে।
যে কারণে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে নতুন কৌশলে ব্রিটিশ সরকার
যুক্তরাজ্যে অনিয়মিত অভিবাসন এখন শুধু আইনশৃঙ্খলা নয়, একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। এই বাস্তবতায় প্রথমবারের মতো টিকটককে সরাসরি রাষ্ট্রীয় বার্তা ছড়ানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে ব্রিটিশ সরকার।
‘সিকিউর বর্ডার্স ইউকে’ নামের নতুন টিকটক অ্যাকাউন্টে অভিবাসন অভিযানের ভিডিও, গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের দৃশ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, অনলাইনে ছড়ানো ভুয়া তথ্য মোকাবিলা, ব্রিটেনমুখী অনিয়মিত অভিবাসীদের নিরুৎসাহিত করা এবং অভিবাসন প্রশ্নে কঠোর অবস্থান দৃশ্যমান করা। কিন্তু এই উদ্যোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এসব ভিডিও মানুষকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং অভিবাসীদের মানবিক সংকট আড়াল করছে। তাদের মতে, এটি বাস্তব সমাধানের বদলে জনমত প্রভাবিত করার একটি প্রচারণা।
অন্যদিকে সরকার বলছে, বাস্তবতা ভিন্ন। ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসন থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, আর সেই সুযোগ নিচ্ছে অতি ডানপন্থি রাজনীতি। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মানবপাচারকারী চক্র ধ্বংসের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন, যা সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকটক প্রচারণা হয়তো সরকারের বার্তা দ্রুত ছড়াতে সাহায্য করবে, কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসন সংকটের কাঠামোগত সমস্যার সমাধান দিতে পারবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।


