ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে পর্তুগালের বিভিন্ন শহরে শুরু হয়েছে ব্যাপক তুষারপাত। সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়ার দেশ পর্তুগালে এমন তুষারপাত খুবই বিরল ঘটনা। কিন্তু চলতি সপ্তাহে শক্তিশালী শীতল বায়ুপ্রবাহ ও ঝড়ের প্রভাবে দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বহু শহর সাদা বরফে ঢেকে গেছে।
সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে উত্তর ও উচ্চভূমির এলাকাগুলোতে। ভিসেউ এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে টানা তুষারপাত, স্থানীয় সড়কে বরফ জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গুয়ার্দা-তে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে নেমে যাওয়ায় ভারী তুষার ও বরফ জমে গেছে। মানতেইগাস ও সেরা দা এস্ত্রেলাসহ পর্যটন এলাকাগুলো এখন পুরোপুরি তুষারে আচ্ছাদিত। ভিলা রিয়াল ও মন্টালেগ্রে পাহাড়ি রাস্তায় তুষার জমে যানবাহন আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কাস্ত্রো দাইরে ও ব্রাগা অঞ্চলের কিছু অংশে হালকা থেকে মাঝারি তুষারপাত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু এলাকায় তুষারপাত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২০০-৩০০ মিটার উচ্চতাতেও নেমে এসেছে, যা পর্তুগালের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
পর্তুগালের আবহাওয়া বিভাগ (আইপিএমএ) উত্তর ও উত্তর-মধ্যাঞ্চলের একাধিক জেলায় রেড ও অরেঞ্জ ওয়েদার অ্যালার্ট জারি করেছে। সতর্কতায় বলা হয়েছে, তুষার ও বরফের কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, ভূমিধস ও গাছ উপড়ে পড়ার আশঙ্কা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্ন এবং রাত ও ভোরে ব্ল্যাক আইস তৈরি হয়ে যান চলাচল অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।
তুষারপাতের কারণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইপি৪ ও এটু৪ জাতীয় মহাসড়ক-এ যান চলাচল সীমিত, পাহাড়ি এলাকায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ও জরুরি সেবা ছাড়া সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেল ও বিমান চলাচলেও বিলম্বের খবর পাওয়া গেছে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী রুটগুলোতে।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে কিছু অঞ্চলে, স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ, স্কুলবাস চলাচল স্থগিত ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শীত ও তুষারপাত সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে ফেলেছে বয়স্ক মানুষ ও পাহাড়ি গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের।
তুষারপাতের পাশাপাশি পর্তুগালের পশ্চিম উপকূলে ঝড়ো আবহাওয়া দেখা দিয়েছে। আটলান্টিক মহাসাগরে, ১০ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত ঢেউয়ের আশঙ্কা, ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারকে সমুদ্রে না যেতে নির্দেশ ও উপকূলীয় এলাকায় পর্যটকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সিভিল প্রোটেকশন বিভাগ নাগরিকদের উদ্দেশে জানিয়েছে, উষ্ণ পোশাক পরিধান, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা, পাহাড়ি ও বরফাচ্ছন্ন রাস্তায় না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ বা গ্যাস হিটার ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
পর্তুগালে চলমান এই তুষারপাত দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য শীতকালীন ঘটনা। বিরল তুষারপাত, রেড অ্যালার্ট জারি, সড়ক, শিক্ষা ও জনজীবনে বড় প্রভাব এবং সামনে আরও কয়েকদিন শীত ও বরফ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলেও এমন চরম শীতল পরিস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে।


