বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেছেন, দেশের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা যে কোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি।
ফ্রান্স বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী দেশ। বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংযোগকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে। তিনি বলেন,
“বাংলাদেশ গত একদশকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই অগ্র যাত্রা অব্যাহত রাখতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার শক্ত ভিত্তি অপরিহার্য”।
রাষ্ট্রদূত বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক পক্ষের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের অবাধে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, সহিংসতামুক্ত এবং প্রশাসনিকভাবে স্বচ্ছ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের বিষয়টিকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তিনি মনে করেন, বিদেশে বসবাসরত নাগরিকদের ভোটাধিকার কার্যকর হওয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের এমন মন্তব্য নির্বাচনের প্রতি বৈশ্বিক মনোযোগের ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সুবিধা, জিএসপি সুবিধা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এই নির্বাচন তাই শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সক্ষমতা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক আস্থার এক বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


