বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মূলত কোরিয়া, জাপান, চীন ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক সলভেন্সি বা আর্থিক সক্ষমতার যে প্রমাণ দেখাতে হয়, সেই বাধা দূর করতেই এই বিশেষ ঋণ সুবিধা চালু করছে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই ১০ লক্ষ টাকা ঋণ হিসেবে সরাসরি নগদ বা ক্যাশ আকারে শিক্ষার্থীর হাতে দেওয়া হবে না। বরং বিদেশে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় যেখানে আর্থিক সাপোর্টের প্রয়োজন হবে—যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি প্রদান বা নির্দিষ্ট কোনো পেমেন্ট—সেক্ষেত্রে ব্যাংক সরাসরি সেই অর্থ পরিশোধ করবে। সাধারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে যে ধরণের জটিল গ্যারান্টি বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের এই বিশেষ স্কিমে তা থাকবে না। এর ফলে মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা অনেক সহজে বিদেশের মাটিতে পা রাখার সুযোগ পাবে।
নুরুল হক নুর আরও জানান, বিদেশগামী শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে সেসব দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। এই দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লাভের কথা চিন্তা করেই সরকার গ্যারান্টি ছাড়া এই ব্যাংক সলভেন্সি সাপোর্টের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে সাময়িক অস্থিরতা থাকলেও, যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনামের সরকারি পর্যায়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এই দুই দেশের শ্রমবাজার নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দক্ষ ও অদক্ষ কর্মী পাঠানোর পথ প্রশস্ত হবে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপ বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের জনশক্তি ও মেধাবীদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


