বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে “গ্রহণযোগ্য ও সুশৃঙ্খল” হিসেবে উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছে ফ্রান্স সরকার। একই সঙ্গে নির্বাচনে বিজয়ী তারেক রহমান-এর প্রতি শুভেচ্ছা ও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
ঢাকায় ফরাসি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, বাংলাদেশের জনগণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে। তারা বিশেষভাবে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, ভোটার উপস্থিতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশকে উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া তুলনামূলক সুশৃঙ্খল, প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থাপনা কার্যকর ও ভোটার অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। ফরাসি কূটনৈতিক বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক ধাপ।
ফ্রান্স বিজয়ী দল ও নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছে যে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করবে। বার্তায় বলা হয়,
“নবনির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গে ফ্রান্স পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।”
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এটি কেবল আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা নয়; বরং নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। ফ্রান্স বিশেষভাবে তিনটি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ জানিয়েছে, জলবায়ু ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তি।ফরাসি পক্ষ মনে করছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়তে পারে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন সুযোগ পাবে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পশ্চিমা দেশের এমন প্রতিক্রিয়া নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কারণ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ঋণ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফ্রান্সের এই অবস্থানকে ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান হিসেবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক অভিনন্দন নতুন সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান শক্ত করবে। এছাড়া বৈদেশিক বিনিয়োগে আস্থা বাড়ার পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পার। সব মিলিয়ে ফ্রান্সের প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


