মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম দেশ হিসেবে জ্বালানি রেশনিং বা তেলের ব্যবহার সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে স্লোভেনিয়া। ইরান ও এর মিত্রদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হলেও স্লোভেনিয়ায় সরকার নিয়ন্ত্রিত দাম তুলনামূলক কম। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে অস্ট্রিয়া থেকে চালকরা সীমান্ত পার হয়ে স্লোভেনিয়ায় সস্তায় তেল নিতে ভিড় করছেন, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘ফুয়েল ট্যুরিজম’ বলা হচ্ছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্লোভেনিয়ার সাধারণ গাড়িচালকরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ লিটার জ্বালানি কিনতে পারবেন। তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষকদের জন্য এই সীমা কিছুটা শিথিল করে ২০০ লিটার রাখা হয়েছে। হাঙ্গেরিয়ান কোম্পানি ‘এমওএল’ সহ কিছু খুচরা বিক্রেতা ইতিমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে ৩০ লিটারের সীমা কার্যকর করেছে।
স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলোব গত সপ্তাহে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, “আমাদের গুদামে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ আছে, তাই সংকটের কোনো কারণ নেই।” পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষকে এই রেশনিং কঠোরভাবে তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম ১.৮০ ইউরো এবং ডিজেলের দাম ২ ইউরোর কাছাকাছি। বিপরীতে স্লোভেনিয়ায় এই দাম যথাক্রমে ১.৪৭ এবং ১.৫৩ ইউরোতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। এই বিশাল পার্থক্যের কারণেই অস্ট্রিয়ার চালকরা দলে দলে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন।
অস্ট্রিয়ার কট্টর ডানপন্থী নেতা হার্বার্ট কিকল এই পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্লোভেনিয়ার পেট্রোল পাম্পে অস্ট্রিয়ান গাড়ির দীর্ঘ লাইনের ছবি পোস্ট করে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “এটা কি দুঃখজনক নয় যে, জীবনযাত্রার খরচ কমাতে আমাদের নাগরিকদের বিদেশে যেতে হচ্ছে?”
সীমান্তবর্তী স্লোভেনীয় নাগরিকদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে দীর্ঘ লাইন ও জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিরক্ত হলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এই পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছেন। কারণ ‘ফুয়েল ট্যুরিস্ট’রা তেল নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটে খরচ করছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দামের এই বড় ব্যবধান বজায় থাকলে রেশনিং সত্ত্বেও এই ভিড় কমার সম্ভাবনা নেই।


