পরিবেশ দূষণ রোধ এবং ফ্যাশন শিল্পকে আরও টেকসই করার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এখন থেকে ইউরোপের বাজারে অবিক্রিত পোশাক, টেক্সটাইল এবং জুতো পুড়িয়ে ফেলা বা ধ্বংস করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতি-উৎপাদন বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব ‘সার্কুলার ইকোনমি’ গড়ে তুলতেই এই নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছে।
ইইউ-এর এই নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, বড় কোম্পানিগুলোর জন্য অবিক্রিত টেক্সটাইল এবং জুতো ধ্বংস করার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে সরাসরি কার্যকর হবে। তবে মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোকে প্রস্তুতির জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে আপাতত এই নিয়মের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের তথ্যমতে, এই ‘ইকো-ডিজাইন ফর সাসটেইনেবল প্রোডাক্টস রেগুলেশন’ মূলত পণ্যের স্থায়িত্ব, পুনঃব্যবহারযোগ্যতা এবং মেরামতযোগ্যতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়। কোম্পানিগুলোকে এখন থেকে তাদের বাড়তি স্টক ধ্বংস করার পরিবর্তে সেগুলো পুনরায় বিক্রি, মেরামত, দান করা বা রিসাইকেল করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর ইউরোপে ৪% থেকে ৯% অবিক্রিত টেক্সটাইল পণ্য ব্যবহারের আগেই ধ্বংস করে ফেলা হয়। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য থেকে প্রায় ৫.৬ মিলিয়ন টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, যা পুরো সুইডেন রাষ্ট্রের মোট নির্গমনের প্রায় সমান। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৯২ মিলিয়ন টন টেক্সটাইল বর্জ্য ভাগাড়ে জমা হয়।
নিরাপদ নয় এমন পণ্য বা ক্ষতিগ্রস্ত মালের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্তে ধ্বংস করার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে কোম্পানিগুলোকে এখন থেকে প্রতি বছর তারা কী পরিমাণ পণ্য ফেলে দিচ্ছে বা ধ্বংস করছে, তার একটি সুনির্দিষ্ট পাবলিক রিপোর্ট বা হিসাব প্রকাশ করতে হবে।


