মার্কিন গ্যাস শিল্পের চাপের মুখে ইউরোপীয় কমিশন তাদের মিথেন নিঃসরণ মানদণ্ড সংশোধন করতে চাচ্ছে। ২০২৫ সালের অন্তত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ব্যক্তিগতভাবে অনুষ্ঠিত হলেও সেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি, যা ইইউ-এর স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
২০২০ সালে ইইউ তার ‘মিথেন স্ট্র্যাটেজি’ চালু করে, যা জ্বালানি, কৃষি এবং বর্জ্য খাতে মিথেন নিঃসরণ সীমিত করার প্রথম ব্যাপক পরিকল্পনা। এই কৌশলের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ‘ইইউ মিথেন রেগুলেশন’ গৃহীত হয়। এর ফলে ইইউ-তে কর্মরত জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানি ও গ্যাস আমদানিকারকরা তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে মিথেন লিক পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্ট করতে বাধ্য হয়। এটি অপচয় কমিয়ে জলবায়ু সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
তবে ইউরোনিউজ এর প্রাপ্ত অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই মানদণ্ডগুলো শীঘ্রই শিথিল হতে পারে। মার্কিন-ইইউ ধারাবাহিক কিছু অস্বচ্ছ বৈঠকের পর এই সংশোধনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ইউরোপের জ্বালানি স্বাধীনতার লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের একটি অভ্যন্তরীণ ব্রিফিংয়ে দেখা গেছে যে, কমিশনের জ্বালানি নীতি বিভাগ, ২০২৮ সালের পর সংশোধনের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এছাড়া তারা সরাসরি মার্কিন এলএনজি উৎপাদনকারীদের সাথে নিয়ম বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা রেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও স্বচ্ছতার অভাব
মিথেন কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে প্রায় ৮০ গুণ বেশি ক্ষতিকারক। ইইউ-এর কঠোর নিয়মগুলো মার্কিন এলএনজি রপ্তানিতে বাধা সৃষ্টি করছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। ২০২৪ সালের অক্টোবরে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ অনুরোধ করেছিল যেন তাদের প্রবিধানগুলোকে ইইউ-এর ‘সমতুল্য’ হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ঘরোয়া মিথেন প্রবিধানগুলোকে আরও দুর্বল করেছে। পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট। ইইউ নিয়ম অনুযায়ী লবিস্টদের সাথে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক হলেও, মার্কিন গ্যাস শিল্পের বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেমন এক্সন মবিল বা মার্কিন চেম্বার অফ কমার্সের সাথে বৈঠকের তথ্য ইইউ-এর স্বচ্ছতা রেজিস্টারে প্রকাশ করা হয়নি।
অবিরাম নির্ভরতা
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মার্কিন-ইরান যুদ্ধের আবহে জ্বালানি স্বাধীনতার দাবি বাড়লেও, ইইউ এখনো আমেরিকান গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ২০২৫ সালের আগস্টে হওয়া এক চুক্তিতে ইইউ ২০৩০ সাল নাগাদ তাদের মোট গ্যাসের প্রায় ৪০% যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিকল্পনা করেছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মিথেন রেগুলেশন দুর্বল করা হলে তা পরিবেশের জন্য চরম বিপর্যয়কর হবে। এটি কার্যকর না হলে ইউরোপের ‘রি পাওয়ার ইইউ’ কৌশলের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।


