ইউরোপের দেশগুলো প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি ২১ তারিখে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে থাকে। এই দিনটি শুধুমাত্র ভাষার সংরক্ষণের দিন নয়, এটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, বহুভাষিক শিক্ষা এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর কার্যকর মাধ্যম। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লাব ও লাইব্রেরি দিবসটি উদযাপন করতে নানা ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করে। এতে গল্পকথা, কবিতা পাঠ, সাহিত্য, নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে মাতৃভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
জার্মানির স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় মাতৃভাষার কর্মশালা, কবিতা পাঠ ও বিতর্ক আয়োজন করে। অভিবাসী শিক্ষার্থীরা নিজের মাতৃভাষায় অংশগ্রহণ করে।
ফ্রান্স-এর লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ভাষার প্রদর্শনী, চিত্রকলা, নৃত্য ও গল্পের পাঠ আয়োজন করে। আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোতে মাতৃভাষা চর্চা এবং শিক্ষামূলক গেম অনুষ্ঠিত হয়।
বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স ও ব্রাসেলস অঞ্চলে মাতৃভাষা উৎসবের আয়োজন করা হয়। শিশু ও কিশোরদের জন্য বাংলা, ফরাসি, ডাচ ও জার্মান ভাষার কর্মশালা পরিচালনা করা হয়।
যুক্তরাজ্যের স্কুল, কলেজ ও কমিউনিটি সেন্টার শিশুদের মাতৃভাষা চর্চা, গল্পকথা ও সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী আয়োজন করে। বিশেষভাবে অভিবাসী ও রিফিউজি সম্প্রদায়ের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে ভাষা ও সাহিত্য উৎসব, অনলাইন ওয়ার্কশপ এবং কমিউনিটি গল্পকথার মাধ্যমে মাতৃভাষা চর্চা উৎসাহিত করা হয়।
উদযাপনের মূল লক্ষ্য, মাতৃভাষার ব্যবহার ও সংরক্ষণের গুরুত্ব প্রচার করার মাধ্যমে ভাষাগত সচেতনতা বৃদ্ধি, গান, নৃত্য, কবিতা ও গল্পের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্কুল ও কলেজে মাতৃভাষা শিক্ষাকে উৎসাহিত করা এবং অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি করা, কমিউনিটি ইভেন্ট ও অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন তৈরি করা এবং অনলাইন ও ভার্চুয়াল ওয়েবিনার ও ওয়ার্কশপের মাধ্যমে দূরবর্তী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবে
দিবসটিতে বিশেষ উদ্যোগ হিসাবে লাইব্রেরি ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো মাতৃভাষা চর্চা ও সাহিত্য কর্মশালার আয়োজন, অনলাইন ও ভার্চুয়াল ক্লাস অভিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল অ্যাক্সেস সরবরাহ, সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজন, যেখানে ভাষা, সংগীত, শিল্প ও খাবারের মাধ্যমে বহুভাষিক পরিবেশ তৈরি, এবং শিশু ও কিশোরদের মাতৃভাষায় গল্পকথা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মাধ্যমে ইউরোপে, এতে মাতৃভাষার ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে, শিক্ষার্থীরা ভাষাগত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসী হবে, অভিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি পাবে, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হবে এবং শিশু ও কিশোররা নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে।
ফেব্রুয়ারি ২১ তারিখে উদযাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও সম্প্রদায়িক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করছে।


