বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছেছে সুইজারল্যান্ডের পাসপোর্ট। বিশ্বখ্যাত নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান-হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এ প্রকাশিত ২০২৬ সালের হেনলি পাসপোর্ট ইনডেস্ক–এ সুইস পাসপোর্ট উঠে এসেছে বিশ্বের তৃতীয় শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে। এটি গত বছরের জুলাই ২০২৫–এর তুলনায় দুই ধাপ এগিয়ে, যা সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
তৃতীয় স্থানে যৌথ অবস্থান
এই তৃতীয় স্থানটি সুইজারল্যান্ড এককভাবে নয়, বরং ইউরোপের আরও চারটি দেশের সঙ্গে যৌথভাবে অর্জন করেছে। দেশগুলো হলো, ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন ও সুইডেন। এই পাঁচটি দেশের নাগরিকরা বর্তমানে ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়াই অথবা ভিসা অন অ্যারাইভালে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেস্ক
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেস্ক বছরে দু’বার প্রকাশিত হয় এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য পাসপোর্ট র্যাংকিং সূচকগুলোর একটি। এই সূচকে পাসপোর্টের শক্তি নির্ধারণ করা হয় একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডে, কতটি দেশে একজন নাগরিক ভিসা ছাড়াই অথবা ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধায় প্রবেশ করতে পারেন।
এই সূচক তৈরিতে তথ্য সরবরাহ করে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন-আইএটিএ, যা বৈশ্বিক বিমান চলাচল ও ভ্রমণ সংক্রান্ত সবচেয়ে বিশ্বস্ত ডেটা সংস্থাগুলোর একটি।
সুইস নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সুবিধা
বর্তমান সূচক অনুযায়ী, সুইস নাগরিকরা বিশ্বের ১৮৬টি দেশে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণ করতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধার পেছনে রয়েছে, সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্ক, উন্নত অর্থনীতি ও উচ্চ আন্তর্জাতিক আস্থা এবং নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা। এই সব কারণে সুইজারল্যান্ড বিশ্বের কাছে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত।
শীর্ষে সিঙ্গাপুর, দ্বিতীয় স্থানে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
২০২৬ সালের সূচকে, প্রথম স্থান দখল করেছে সিঙ্গাপুর, যার নাগরিকরা ১৯২টি দেশে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার পান। দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, যাদের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই যেতে পারেন ১৮৮টি দেশে। এই তালিকা স্পষ্টভাবে দেখায়, এশিয়া ও ইউরোপের কিছু দেশ বৈশ্বিক কূটনীতিতে কতটা শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে।
শুধু ভ্রমণ নয়, এটি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেনলি পাসপোর্ট ইনডেস্ক কেবল ভ্রমণ সুবিধার তালিকা নয়। এটি একটি দেশের, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, কূটনৈতিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। এই সব কিছুর সম্মিলিত প্রতিফলন।
সে দিক থেকে দেখলে, সুইস পাসপোর্টের এই উত্থান শুধু একটি র্যাংকিং অর্জন নয়, বরং বৈশ্বিক পরিসরে সুইজারল্যান্ডের শক্ত অবস্থানেরই স্বীকৃতি।


