সুইজারল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় আল্পস পর্বতমালায় এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে, একটি আঞ্চলিক যাত্রী ট্রেন তুষারধসের কবলে পড়ে এবং গোপেনস্টেইন শহরের কাছে লাইনের বাইরে চলে যায়। এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে পাঁচজন আহত হন এবং রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
সুইজারল্যান্ডে আল্পস পর্বতমালা শীতকালে তুষারধসের জন্য পরিচিত। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, ট্রেনটি ভোরের সময় চলছিল। হঠাৎ স্টকগ্রাবেন এলাকায় একটি তুষারধস রেলের ট্র্যাকের উপর নামায় ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হয়। এতে ট্রেনটি লাইনের বাইরে ঠেলে যায়। ট্রেনে ছিলেন প্রায় ৩০ জন যাত্রী, পাঁচজন আহত হয়েছেন, একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকি চারজনকে স্থানেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর গোপেনস্টেইন থেকে ব্রিগ পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং ট্রেন ও লাইনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছেন।এছাড়া বিপজ্জনক এলাকায় আরও তুষারধস এড়াতে সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রীরা নিরাপদে আছেন, এবং রেল যোগাযোগ দ্রুত পুনরায় চালু করার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তুষার ও তুষারধস গবেষণা ইনস্টিটিউট (এসএলএফ), সুইজারল্যান্ডে তুষারধসের সতর্কতা সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি স্তর ৪/৫ ঘোষণা করেছে। ভারী তুষারপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে পাহাড়ি এলাকা এখন বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে এবং স্কিয়ার ও পর্যটকদের চিহ্নিত পাথ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে না।
আল্পস পর্বতমালা শীতকালে তুষারধসের জন্য পরিচিত। প্রতি বছর বহু দুর্ঘটনা ঘটলেও, এই দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্য কারণ হলো এতে রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ থমকে গেছে। সুইজারল্যান্ডের রেল ব্যবস্থা সাধারণত বিশ্বমানের এবং অত্যন্ত নিরাপদ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু প্রকৃতির রোষের কাছে এটি শিথিল হয়ে পড়েছে।
আহত যাত্রীদের মধ্যে একজনকে সিয়োন শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, বাকি চারজনকে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন। স্থানীয় হাসপাতালগুলো জরুরি চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত ছিল এবং প্রশাসনও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
ঘটনাটি সুইজারল্যান্ডে এবং ইউরোপজুড়ে শীতকালীন পর্যটন ও ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনগণ অনলাইন ও সংবাদ মাধ্যমে পর্যটক নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর শক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে আরও শক্তিশালী সতর্কতা ব্যবস্থা দরকার।
সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালায় এই দুর্ঘটনা প্রমাণ করেছে, প্রাকৃতিক শক্তির সঙ্গে লড়াই কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, এমনকি উন্নত দেশেও। রেল যোগাযোগে স্থবিরতা, আহত যাত্রীদের দ্রুত চিকিৎসা ও পাহাড়ি এলাকা থেকে নিরাপদে মানুষ সরানো, এই দুর্ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃতির বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা সম্ভব নয় এবং সতর্কতা ও প্রস্তুতি সর্বদা অপরিহার্য।


