ইউরোপীয় বিমান নিরাপত্তা সংস্থা-ইএএসএ ইরানের আকাশসীমা ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা জারি করেছে, কারণ চলমান উত্তেজনা ও মার্কিন সামরিক হামলার আশঙ্কা থামছে না, ফলে বেসামরিক বিমান চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে গেছে।
ইউরোপীয় এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মতে, ইরানের আকাশের উপর রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বেড়েছে। ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে, এবং যে কোনো ভুল শনাক্তকরণে বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে এমন সম্ভাবনা আছে, বিশেষত মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কায়। এ কারণে ইএএসএ ইউরোপের এয়ারলাইনগুলোকে ইরানের আকাশে প্রচলিত রুটে নয়, বরং বিকল্প পথ (যেমন আফগানিস্তান বা কেন্দ্রীয় এশিয়ার ওপর দিয়ে) দিয়ে ফ্লাইট চালানোর পরামর্শ দিয়েছে।
ইরান কিছু সময়ের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়েছিল, বিশেষত যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল , পরে আবার আকাশসীমা খুলে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ থাকার সময় এবং পরে অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বাতিল বা পথ পরিবর্তন করেছে, ফলে বিমান ভ্রমণে বিলম্ব ও জটিলতা বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেক বড় এয়ারলাইন্স, যেমন লুফ্থানসা, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও উইজ এয়ার, এখনও ইরান ও ইরাকের আকাশ সীমা ব্যবহার না করে দীর্ঘ রুট বেছে নিচ্ছে।
ইএএসএ সতর্কতার পেছনে শুধুমাত্র বিমান নিরাপত্তা নয়, বরং বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও সম্ভাব্য সামরিক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকিও কাজ করছে। ইরানে সরকারের বিরোধী বিক্ষোভ, কঠোর দমন, এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি, এসব কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন।
বিশ্লেষকের মতে, ইরানের ওপর সরাসরি হামলা বা বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ঘটলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজগুলো প্রবাহিত রুটেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
বিশ্বের প্রধান বিমান সংস্থাগুলো বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ফুল রুট ছেড়ে নিরাপদ ভূখণ্ড বেছে নিয়েছে। যদিও ইরানের আকাশ আবার খোলা হয়েছে, কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি না কমায় বহু এয়ারলাইন্স এখনো সরসারি সেই রুটে ভ্রমণ করছে না।
মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ও ইরানের উচ্চ সতর্কতা অবস্থায় ইউরোপীয় বিমান নিরাপত্তা সংস্থা ইরানের আকাশসীমা এড়ানোর জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও রুট পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।


