ফ্রান্সে ২০২৬ সালের পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৫ ও ২২ মার্চ ২০২৬ তারিখে। এই নির্বাচনে প্রবাসী সম্প্রদায়ের প্রভাব ও অংশগ্রহণ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে।
বর্তমানে ফ্রান্সে শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়ন সদস্যদের নাগরিকরা পৌর নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে এবং প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু দেশের জাতীয় আইনসভায় সম্প্রতি একটি আইনি প্রস্তাব আবারো আহ্বান হয়েছে, যাতে ইইউ‑এর বাহিরের বিদেশীদেরও ভোটাধিকার প্রদান করা বিষয়ে পুনরায় আলোচনা হচ্ছে।
প্রস্তাবটি অনুযায়ী, এমন বিদেশীরা যারা কমপক্ষে ৫ বছর ফ্রান্সে বসবাস করেছেন, তারা যদি আইনের শর্তগুলোর অধীন হতে পারেন, তাহলে তাঁরা নাগরিক নয়েও পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে ও প্রার্থী হতে পারেন বলে বিবেচিত হচ্ছে। এটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে এবং জাতীয় সংসদে বিষয়টি দ্বিতীয় পাঠের মাধ্যমে পুনরায় আলোচনা করা হচ্ছে।
যদিও ফ্রান্সে স্থায়ী বসবাসকারী বাংলাদেশিরা বর্তমানে নাগরিক নয়, তাই তারা সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে বা নির্বাচিত হতে অংশ নিতে পারেন না, যদি না ইইউ‑বাহির নাগরিকদের ভোটাধিকার দেন এমন আইন পাস হয়।
তবে ফ্রান্সে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি, বিশেষত যারা দীর্ঘসময় থেকে সেই দেশে কাজ বা পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন, তাঁরা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সামাজিক সংগঠন ও কমিউনিটি উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং নাগরিকদের মতো পৌর নির্বাচনের প্রচারণা, সমর্থন এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও সেবা‑কেন্দ্রিক কাজেও অংশ নিচ্ছেন বলে দেখা যাচ্ছে।
এ ধরনের উপস্থিতি সাধারণত ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কমিউনিটি ভিডিতে তুলে ধরা হয়েছ। এতে দেখা যায় বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা পৌর নির্বাচনের মাঠের বিভিন্ন স্থানে সমর্থন ঘোষণা, টাউনহল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোতে মতামত ব্যক্ত করছেন।
ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে প্রবাসীর ভূমিকা শুধু ভোট বা প্রার্থীতায় সীমাবদ্ধ নয়, বহু অভিবাসী সম্প্রদায়ী স্থানীয় কমিউনিটি কাউন্সিলে সাংগঠনিক অংশ নিচ্ছেন। এরমধ্যে শহরের সেবা ও উন্নয়ন সম্পর্কে মতামত প্রদান, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সামাজিক সমন্বয়‑কেন্দ্রিক সভায় উপস্থিতি, ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা ও নির্বাচনী আলোচনা ও স্থানীয় সমসাময়িক সমস্যা (যেমন আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা)‑তে কমিউনিটি অনুরোধ তুলে ধরা। এমন ভূমিকা অভূতপূর্ব নয়, ইউরোপের বড় শহরগুলোতে প্রবাসী সম্প্রদায়ের স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ এই ধরনের দৃশ্য ইতিমধ্যেই নিয়মিত হয়ে উঠেছে।
ফ্রান্সে ইইউ’র‑বাহিরের বিদেশী‑দের ভোটাধিকার বিষয়ে পুনরায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে জাতীয় পরিষদে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশে পুরুষ/নারী অভিবাসীরা স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার পায় যদি তারা দীর্ঘকাল বসবাস করছে, ফ্রান্সেও সেই মডেলটি অনুধাবনের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশি সম্প্রদায় ফ্রান্সে বড় আকারে বসবাস করে, বিশেষত প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ ও স্ট্রাসবুর্গের মতো শহরগুলোতে। যদি ভবিষ্যতে ইইউ’র বাহিরের বিদেশীদের ভোটাধিকার পেয়েও ভোট প্রদানের সুযোগ পৌঁছে যায় তাহলে, বাংলাদেশের মতো বাইরে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের ভোট ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, স্থানীয় উন্নয়ন নীতির প্রতি তাদের অংশগ্রহণ আরও দৃঢ় হবে, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বদিকে পরিবর্তিত হতে দেখা যেতে পারে এবং ফ্রান্সের সমাজ ও রাজনীতিতে বহুজাতিক প্রভাব বাড়বে। এই সম্ভাব্য ধারা আগামীতে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৬ ফ্রান্সের পৌর নির্বাচন ১৫ ও ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইইউ’র বাহিরের বিদেশীদের ভোটাধিকার নিয়ে ফরাসি সংসদে আইনি বিতর্ক চলছে। বাংলাদেশের মতো বৃহৎ প্রবাসী সম্প্রদায়ের সক্রিয় উপস্থিতি সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে দৃশ্যমান, এবং ভবিষ্যতে আইন পরিবর্তন হলে তাদের অংশগ্রহণ আরও কার্যকর ও গণতান্ত্রিকভাবে মূল্যবান হতে পারে।


