ইউরোপের দেশ ফ্রান্স-এ টানা কয়েক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টি ও একের পর এক ঝড়ের আঘাতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বহু শহরে জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে।
আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে টানা প্রায় ৩৫-৩৬ দিন ধরে বৃষ্টিপাত চলছে, যা কয়েক দশকের মধ্যে দীর্ঘতম। এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক ঝড় বিশেষ করে পেদ্রো ঝড়” ও “নিলস ঝড় -এর প্রভাবকে দায়ী করা হচ্ছে। এই ঝড়গুলো অতিবৃষ্টি, দমকা হাওয়া ও নদীর পানির স্তর দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে মাটি পুরোপুরি ভিজে থাকায় নতুন বৃষ্টি সরাসরি নদীতে গিয়ে পানি বাড়াচ্ছে, অনেক এলাকায় নদী তীর ভেঙে পানি শহরে ঢুকে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ১৯৫৯ সালের পর সর্বোচ্চ মাটির আর্দ্রতা রেকর্ড হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে, জিরঁদ, লো-এ-গারন, মেন-এ-লয়ার ও শারঁত-মারিতিম।বহু এলাকায় সর্বোচ্চ “রেড ফ্লাড অ্যালার্ট” জারি করা হয়েছে। ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, হাজার হাজার বাড়ি পানির নিচে, কয়েকটি শহরের রাস্তা ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে চাপ কমানোর চেষ্টা ও কিছু এলাকায় খাবার পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শহরগুলোর রাস্তায় নৌকা চলাচল শুরু হয়েছে এবং অনেক জায়গা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ঝড় ও বন্যায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত বা ডুবে গেছে, শক্তিশালী ঢেউ ও বাতাসে উপকূলীয় এলাকায় বিপদ বাড়ছে এবং নৌকা দুর্ঘটনাসহ আবহাওয়াজনিত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্যোগ আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা, নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, বৃষ্টি কমলেও প্লাবন দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং সপ্তাহজুড়ে নতুন ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্রান্সে দীর্ঘমেয়াদি অতিবৃষ্টি, একাধিক ঝড় এবং নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বন্যা সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


