ফ্রান্সে ইউনেস্কো সদর দপ্তরে জাঁকজমকভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানটি পালিত হয়েছে।এটি আন্তর্জাতিকভাবে ভাষা ও শিক্ষার বৈচিত্র্য, মাতৃভাষার মর্যাদা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বহুভাষিকতার গুরুত্ব তুলে ধরার একটি প্রাধান্য প্রাপ্ত মঞ্চ।
এই বছর ভিন্নভাবে গুরুত্ব পেয়েছে কারণ ইউনেস্কো ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে একটি নতুন বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করার ঘোষণা করেছে। এতে ভাষা সংরক্ষণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং বিপন্ন ভাষার প্রতি সহায়তা বৃদ্ধির নতুন দিকনির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইউনেস্কোর সদ্য নিযুক্ত মহাপরিচালক খালেদ এল এনানি ভাষা ও শিক্ষা সম্পর্কে তার বক্তব্যে বলেন, ভাষা শুধুই কথার মাধ্যম নয়, এটি মানুষের পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। মাতৃভাষার সম্মান ও সংরক্ষণ মানবাধিকারের একটি মৌলিক দিক। তিনি আরও বলেন, নতুন কর্মপরিকল্পনা ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টাকে জোরদার করবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বহুভাষিক শিক্ষাকে শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, ভাষা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাতৃভাষা দিবসের গ্লোবাল থিম নিয়ে আলোচনা করেন, যা ভাষাগত বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও ভাষার অধিকারকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়। ইউরোপ, আফ্রিকা, আগ্রহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোও ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে এই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বিশেষভাবে নজর কাড়ে, তারা বিভিন্ন মাতৃভাষায় নিজের সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিয়েছেন এবং ভাষার মাধ্যমে কীভাবে শিক্ষা ও পরস্পরের সাথে সংযোগ স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি জানিয়েছে।
ইউনেস্কো এই অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তুলেছে নতুন ভাষা সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার মাধ্যমে, যা আগামী বছরগুলিতে ভাষাগত বৈচিত্র্য, বিপন্ন ভাষার সুরক্ষা এবং শিক্ষায় মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতিকে অন্তর্ভুক্ত করবে। এতে বিশেষ আয়োজন হিসেবে রয়েছে, ভাষা সংরক্ষণে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণে সমন্বয়, বিপন্ন ভাষার ডকুমেন্টেশন ও ডিজিটালাইজেশন, শিক্ষা ব্যবস্থায় বহুভাষিক শিক্ষার প্রসার এবং এলাকাভিত্তিক সম্প্রদায়ের ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক অধিকার উন্নয়ন। এ কর্মপরিকল্পনা ভবিষ্যতের সমাজে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক পরিবেশ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিত করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয় এবং এর মূল লক্ষ্য হলো ভাষাগত বৈচিত্র্য, মাল্টিলিঙ্গুয়াল শিক্ষা ও ভাষার অধিকারকে সমর্থন করা। ইউনেস্কো এটি প্রথম ঘোষণা করে ১৯৯৯ সালে এবং পরে এটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে স্বীকৃত হয়।
এই দিনটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ বিপন্ন ভাষা সংরক্ষণ, শিক্ষায় ভাষার ভূমিকা ও মানুষের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে রক্ষায় আন্তর্জাতিক স্তরে উদ্যোগ গ্রহণ করতে উৎসাহিত করে।


