পশ্চিম ইউরোপে আঘাত হানা শক্তিশালী ঝড় ‘নীলস’-এর তাণ্ডবে ফ্রান্স ও স্পেনে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতে গাছ উপড়ে পড়া, ছাদ ধস, সড়ক প্লাবিত হওয়া এবং বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া দুর্যোগে দক্ষিণ ফ্রান্স, উত্তর স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশে পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। অসংখ্য ফ্লাইট, ট্রেন ও ফেরি বাতিল করা হয়; বহু সড়কে যানজট ও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া গেছে।
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের সময় একটি ভবনের ছাদ ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আবহাওয়াজনিত দুর্ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ফ্রান্সে ঝড়-সম্পর্কিত ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। পর্তুগালে বন্যার পানির তোড়ে একটি সেতু আংশিকভাবে ধসে পড়েছে, কয়েকটি গ্রামীণ এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ফরাসি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এনেডিস জানিয়েছে, ঝড়ের সর্বোচ্চ সময়ে প্রায় ৯ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েন। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা (ফরাসি সময়) পর্যন্ত অর্ধেকের বেশি গ্রাহকের সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ৩ হাজার কর্মী মাঠে নেমে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামতের কাজ করেন। তবে প্লাবিত সড়ক, উপড়ে পড়া গাছ এবং বিচ্ছিন্ন গ্রামীণ এলাকা পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে।
ঝড়ের প্রভাবে, বহু আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল, উচ্চগতির ট্রেন চলাচল স্থগিত বা বিলম্বিত ও উপকূলীয় অঞ্চলে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। দক্ষিণ ফ্রান্সের উপকূল ও স্পেনের বাস্ক ও কান্তাব্রিয়ান অঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। কিছু এলাকায় বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার ছাড়িয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঝড় ‘নীলস’ মৌসুমি নিম্নচাপের তুলনায় বেশি শক্তিশালী ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতকালেও এ ধরনের শক্তিশালী ঝড়ের প্রবণতা বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন। ঝড়টি পূর্ব দিকে সরে গেলেও কয়েকটি নদী অববাহিকায় এখনো বন্যা সতর্কতা জারি রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের কিছু অঞ্চলে পানি নামতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়া, প্লাবিত সড়ক এড়িয়ে চলা এবং সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। ঝড় ‘নীলস’ সাময়িকভাবে ইউরোপের আবহাওয়ার মানচিত্রে তাণ্ডব চালিয়ে গেলেও এর প্রভাব, অবকাঠামোগত ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও কৃষিখাতে ক্ষয়ক্ষতি, পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


