বিদেশে বসবাসরত ইতালীয় নাগরিকদের জন্য সুখবর। ইতালির নাগরিকত্ব আইন ১৯৯২-এর গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের মাধ্যমে বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানদের নাগরিকত্ব লাভের প্রক্রিয়া আরও সহজ, সময়সীমা দীর্ঘ এবং সম্পূর্ণ ফি মুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে প্রবাসী ইতালীয় কমিউনিটির জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কারা এই সুবিধা পাবেন
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যদি পিতামাতার মধ্যে অন্তত একজন জন্মসূত্রে ইতালীয় নাগরিক হন, তাহলে বিদেশে জন্ম নেওয়া তাদের সন্তান এই বিশেষ ক্যাটাগরির আওতায় ইতালীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবে। বিষয়টি শুধুমাত্র জৈবিক সন্তানদের ক্ষেত্রেই নয়, দত্তক নেওয়া সন্তানদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
সময়সীমা বাড়ল তিনগুণ
এর আগে বিদেশে জন্ম নেওয়া শিশুর জন্মের ১ বছরের মধ্যে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা বাধ্যতামূলক ছিল। বাস্তবতায় এই সময়সীমা অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াত। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে শিশুর জন্মের তারিখ অথবা আইনিভাবে পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার তারিখ থেকে ৩ বছর সময় পাওয়া যাবে নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য।
ফি পুরোপুরি বাতিল
এই সংশোধনীর আরেকটি বড় দিক হলো আর্থিক স্বস্তি। আগে এই ধরনের নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য সরকারকে ২৫০ ইউরো কন্ট্রিবিউশন বা ফি প্রদান করতে হতো। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য কোনো ধরনের ফি বা কন্ট্রিবিউশন দিতে হবে না। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের প্রবাসী পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনি কাঠামোয় অন্তর্ভুক্তি
এই সংশোধনীটি ইতালির ১৯৯২ সালের নাগরিকত্ব আইন (আইন নং ৯১)-এর ৪ নম্বর ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এটি কোনো অস্থায়ী নির্দেশনা নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ আইনগত ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো একটি স্থায়ী পরিবর্তন।
প্রবাসীদের জন্য কী অর্থবহন করে
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রবাসী ইতালীয় নাগরিকদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার ঝুঁকি কমবে, সময়সীমা সংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে, আর্থিক বাধা পুরোপুরি উঠে যাবে, দত্তক নেওয়া সন্তানদের ক্ষেত্রেও আইনি সমতা নিশ্চিত হবে, সব মিলিয়ে বলা যায়, ইতালির এই নাগরিকত্ব সংস্কার প্রবাসী ইতালীয় পরিবারগুলোর জন্য একটি বড় স্বস্তি ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে।


