ইতালীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাতেও পিয়ান্তেদোসি বলেছেন, সরকারের কঠোর ও সমন্বিত অভিবাসন নীতির ফলে চলতি বছরে ইতালিতে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী অভিবাসীর সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, সমুদ্রপথে নজরদারি বৃদ্ধি, মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতা, এসব পদক্ষেপের সমন্বিত ফলেই এই অগ্রগতি এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, ভূমধ্যসাগরীয় রুটে নজরদারি বাড়ানো এবং উদ্ধার-অভিযানের সমন্বয় শক্তিশালী করার পাশাপাশি অবৈধ প্রবেশ রোধে আইনগত কাঠামো আরও কঠোর করা হয়েছে। তার মতে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তবে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক বাধ্যবাধকতাও সমানভাবে রক্ষা করা।
সরকারের দাবি, নতুন নীতিমালার ফলে মানবপাচারকারীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়েছে এবং অনিয়মিত যাত্রার ঝুঁকি কমেছে।
অভিবাসন-সংক্রান্ত কয়েকটি সাম্প্রতিক আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে পিয়ান্তেদোসি বলেন, সরকার এসব রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইতালির বিচারব্যবস্থা তিন স্তরবিশিষ্ট এবং প্রতিটি স্তরেই সরকার আইনের শাসন মেনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। বিচার বিভাগের সঙ্গে আমাদের মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু আমরা সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই সমাধান চাই, যোগ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি বিচারব্যবস্থার নিজস্ব বিষয়। তবে তিনি মনে করেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।
পিয়ান্তেদোসি আসন্ন গণভোটকে একটি “বড় গণতান্ত্রিক সুযোগ” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি সকল নাগরিককে ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও মূল্যবোধ অনুযায়ী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, গণভোট হলো জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যা নীতিনির্ধারণে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আলোচিত নেভাল ব্লক (নৌ-অবরোধ) সংক্রান্ত প্রস্তাব বর্তমানে পার্লামেন্টে আইনি খসড়া হিসেবে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, নৌ-অবরোধ মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তবে সরকারের বক্তব্য, এটি মূলত পাচারকারীদের কার্যক্রম ভেঙে দেওয়ার কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যু বর্তমানে ইতালির রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতি, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বোঝাপড়া এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যেই ইতালির এই পদক্ষেপগুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সরকার বলছে, ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা কাজ করছে এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সব মিলিয়ে, অনিয়মিত অভিবাসন কমার সরকারি দাবি, আদালতের রায় নিয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত এবং নৌ-অবরোধ প্রস্তাব, এই তিনটি বিষয়ই ইতালির অভিবাসন নীতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে। আসন্ন গণভোট ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশটির ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


