ইউরোপে মুসলিম সংখ্যালঘু হওয়ায় চাঁদ দেখার পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মতভেদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে তিনটি পদ্ধতি বেশি ব্যবহৃত হয়, স্থানীয় চাঁদ দেখা, নিকটবর্তী মুসলিম দেশের অনুসরণ ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব্।ইতালিতে প্রায় প্রতি বছরই এই তিন মতের কারণে রোজা বা ঈদের তারিখে পার্থক্য দেখা যায়।
বাংলাদেশি কমিউনিটির বড় অংশ আন্তর্জাতিক ঐক্য বজায় রাখতে সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিদেশে কাজের সময়সূচি, ছুটি ও পারিবারিক পরিকল্পনার সুবিধার জন্য একদিন আগে রোজা শুরু করা সহজ হয়। তবে সবাই একমত, ইউরোপজুড়ে সমন্বিত ফতোয়া বোর্ড গঠন না হলে ভবিষ্যতেও একই বিভ্রান্তি চলবে।
ইসলামি গবেষকদের মতে, শরিয়াহতে উভয় মতের ভিত্তি রয়েছে, একটি হলো স্থানীয় চাঁদ দেখা যা, প্রথাগত পদ্ধতি, অন্যটি বৈশ্বিক ঐক্য যা, সমকালীন বাস্তবতা। তারা বলছেন, ইউরোপীয় মুসলিম কাউন্সিলগুলো যদি যৌথ ক্যালেন্ডার তৈরি করে, তাহলে মুসলিমদের ধর্মীয় জীবনে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।
রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত মাসে ইতালিতে আবারও দুই দিনে রোজা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ বনাম আন্তর্জাতিক অনুসরণের দ্বন্দ্বে বিভক্ত কমিউনিটি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তের দাবি জানিয়েছে।
ইউরোপের দেশ ইতালি-তে পবিত্র রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে আবারও মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। স্থানীয় চাঁদ দেখার ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক হিসাবের ভিন্নতার কারণে মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে একদিন আগে রোজা শুরু করায় একই শহরে ভিন্ন দিনে সেহরি-ইফতার ও তারাবির দৃশ্য দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব-এ চাঁদ দেখা কমিটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ দেখার ঘোষণা দেয়। সে অনুযায়ী বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে দেশটিতে প্রথম রোজা শুরু হয়। ইউরোপে বসবাসরত অনেক মুসলিম, বিশেষত দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীরা, একই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে রোজা শুরু করেন।
ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ স্থানীয় হিলাল কমিটির আহ্বান মেনে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বুধবার থেকেই সেহরি ও তারাবি আদায় করেন। অনেক মসজিদে ওই রাতেই তারাবির জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে রোমভিত্তিক ইতালির ইসলামিক কালচারাল সেন্টার জানায়, স্থানীয় পর্যবেক্ষণে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শরিয়াহ অনুযায়ী শাবান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করা হবে। ফলে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে রমজান শুরু হয়েছে বলে তারা ঘোষণা দেয়।
তাদের যুক্তি, রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা না গেলে মাস পূর্ণ করে পরের দিন রোজা শুরু করা উচিত। এই ঘোষণার পর ইতালির বেশ কিছু আরব ও আফ্রিকান কমিউনিটির মসজিদে একদিন পরে তারাবি অনুষ্ঠিত হয়।
ইতালির হিলাল কমিটির সভাপতি মুফতি ওয়ালি উল্লাহ খান সামাজিক মাধ্যমে জানান, ইউরোপের বহু দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রমজান শুরু হওয়া উচিত। তিনি মুসলিমদের ঐক্যের স্বার্থে একই দিনে রোজা পালনের আহ্বান জানান।
দুই ঘোষণার কারণে কয়েকটি শহরে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, কিছু মসজিদে বুধবার তারাবি, অন্যগুলোতে হয়নি, বৃহস্পতিবার আবার অন্য মসজিদে প্রথম তারাবি অনুষ্ঠিত হয়, এবং একই পরিবারেও ভিন্ন দিনে রোজা রাখার ঘটনা ঘটেছে। কমিউনিটির সাধারণ মুসল্লিরা বলেন, ইবাদতের মাসে এমন বিভ্রান্তি মানসিক অস্বস্তি তৈরি করে।


