বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ঢাকার প্রতি বার্তা দিয়েছে ইতালি। রোম সরকার নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ রাখার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা জোরদার করা এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে ইতালি।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক সংলাপ, আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইতালি বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা দেখতে চায়।
ইতালি বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার ইউরোপে। তৈরি পোশাক, চামড়া ও কৃষিপণ্য রপ্তানির পাশাপাশি ইতালির যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও নকশা-নির্ভর শিল্পে সহযোগিতার সুযোগ বাড়ছে। ব্যবসায়ী মহল বলছে, নির্বাচন-পরবর্তী নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ইতালীয় বিনিয়োগ বিশেষ করে সবুজ জ্বালানি, টেক্সটাইল প্রযুক্তি ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে বাড়তে পারে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বৈধ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও অনিয়মিত অভিবাসন রোধে তথ্য বিনিময়ের বিষয়ও উঠে এসেছে। ইতালিতে বসবাসরত বড় বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক সুরক্ষা, শ্রম অধিকার ও নিয়মিতকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। উভয় পক্ষই দালালচক্র ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে যাত্রা নিরুৎসাহিত করতে যৌথ প্রচারের কথা বিবেচনা করছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, উপকূলীয় সুরক্ষা ও টেকসই নগরায়ণে প্রযুক্তিগত সহায়তার ক্ষেত্রেও ইতালির আগ্রহ রয়েছে। উন্নয়ন সহযোগিতার প্রকল্পগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ঢাকা-রোম সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় যেতে পারে। শিগগিরই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বা যৌথ কমিশন সভা
ইতালির বার্তা স্পষ্ট, গণতান্ত্রিক মানদণ্ড মেনে স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসন সহযোগিতায় এগোতে চায় দুই দেশ।


