ইউরোপের দেশ ইতালি আগামী তিন বছরে (২০২৬-২০২৮) বৈধপথে প্রায় ৫ লাখ বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। সরকারের নতুন শ্রম-অভিবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপের আবেদন (প্রি-ফাইলিং/ক্লিক-ডে পর্যায়) ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই কর্মসূচি মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলো থেকে শ্রমিক এনে ইতালির শ্রম সংকট মোকাবিলার জন্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫৫০ জন বিদেশি শ্রমিককে ধাপে ধাপে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। এরমধ্যে ২০২৬ সালে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন, ২০২৭ সালে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫০ জন এবং ২০২৮ সালে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ জন শ্রমিক নেওয়া হবে। ইতালির ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় এই কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইতালিতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক ঘাটতি রয়েছে কৃষি, পর্যটন ও হোটেল। এসব খাতে মোট ২ লাখ ৬৭ হাজার শ্রমিক নেওয়া হবে। এছাড়া নির্মাণ, উৎপাদন ও কারখানা, পরিবহন ও লজিস্টিকস, মাছ ধরা ও বনখাত, দোকান ও সেবা খাত এবং পরিবার পরিচর্যা (বৃদ্ধ সেবা) খাতে ২ লাখ ৩০ হাজার ৫৫০ জন শ্রমিক নেওয়া হবে। বিশেষ করে ইতালির বয়স্ক জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তাই পরিচর্যা কর্মীর আলাদা কোটা রাখা হয়েছে।
ইতালি বর্তমানে কয়েকটি বড় সংকটে পড়েছে। বর্তমানে দেশটির জন্মহার কমে গেছে একইসাথে কমেছে জনসংখ্যাও।এতে কৃষি ও পর্যটনে শ্রমিক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।এছাড়া ২০৫০ সালের মধ্যে অর্থনীতি ধরে রাখতেও তাদের আরও বিপুল শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এ কারণে সরকার বৈধ অভিবাসনের পথ খুললেও অবৈধ প্রবেশে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
আগের ডিক্রি-ফ্লুসি তালিকায় বাংলাদেশ থেকেও শ্রমিক নেওয়া হয়েছে এবং নতুন তালিকাতেও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবে সুযোগ নির্ভর করবে, ইতালিয়ান নিয়োগকর্তার চাহিদা, সেক্টরভিত্তিক কোটা এবং দূতাবাস যাচাই ও নথির সত্যতার উপর।
ইতালি ইতোমধ্যে ভুয়া কোম্পানি দিয়ে শ্রমিক নেওয়ার চক্র ধরেছে এবং হাজারো আবেদন বাতিল করেছে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দালালের মাধ্যমে নয়, নিয়োগকর্তা ভিত্তিক আবেদন করতে হবে। এছাড়া ভুয়া স্পন্সর এড়িয়ে চলা এবং ‘নুল্লা ওস্তা’ যাচাই ছাড়া টাকা লেনদেন না করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
এই কর্মসূচি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রমবাজারে বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ, ইউরোপে বৈধ শ্রম অভিবাসনের সবচেয়ে বড় কোটা, কৃষি ও কেয়ারগিভার কাজে নতুন সুযোগ কিন্তু আবেদনকারীর সংখ্যা কোটা থেকে বহু গুণ বেশি হবে। অর্থাৎ, ইতালি যাওয়ার পথ খুলেছে, কিন্তু সহজ হয়নি।


