পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে, রাত ১২টা ১ মিনিটে লিসবনের ক্যাম্পো দোস মার্তিরেস দা পাত্রিয়া এ অবস্থিত বাংলাদেশের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসটির কর্মসূচি শুরু হয়।
প্রথমেই পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। পরে একে একে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক সংগঠন, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
প্রবাসের মাটিতে একুশের গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’, এই চিরন্তন সুর ধ্বনিত হতে থাকে উপস্থিত সবার কণ্ঠে। অনেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করেন এবং ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করেন।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলা হয়, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার এই সংগ্রাম আজ বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসে নতুন প্রজন্মের কাছে একুশের চেতনা পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রবাসে বসবাস করলেও একুশের চেতনা তাদের হৃদয়ে অমলিন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। তারা ভবিষ্যতেও সম্মিলিতভাবে এই দিবস পালন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে শহীদ মিনারে এসে ফুল দেন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। এতে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন আয়োজকেরা।
সবশেষে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রবাসের মাটিতে এমন আয়োজনের মধ্য দিয়ে লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আবারও প্রমাণ করলেন, একুশ মানে মাথা নত না করা, একুশ মানে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা, একুশ মানে বাঙালির আত্মপরিচয়ের অহংকার।


