আধুনিক বিশ্বে যখন কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার জোরালো দাবি উঠছে, তখন পর্তুগালে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেশটিতে প্রতি ১০ জন শ্রমিকের মধ্যে একজন সপ্তাহে গড়ে ৪৯ থেকে ৫০ ঘণ্টা কাজ করছেন। এই দীর্ঘ কর্মঘণ্টার সংস্কৃতি পর্তুগালকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ দেশগুলোর কাতারে নিয়ে এসেছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে।
র্যান্ডস্ট্যাড রিসার্চের ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের তথ্যানুযায়ী, এই দেশে ৯.১ শতাংশ কর্মচারী সপ্তাহে অন্তত ৪৯ ঘণ্টা কর্মক্ষেত্রে কাটান। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় হার মাত্র ৬.৫ শতাংশ। এমনকি জার্মানি (৫%) বা স্পেনের (৬.৩%) মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলোর তুলনায় এখানে হাড়ভাঙা খাটুনির হার অনেক বেশি। পর্তুগালে সরকারি খাতে ৩৫ ঘণ্টা এবং বেসরকারি খাতে ৪০ ঘণ্টার যে আদর্শ নিয়ম রয়েছে, বাস্তবে তা তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য মিলেছে। ১৯৯২ সাল থেকে দেশটিতে উচ্চশিক্ষিত কর্মজীবী মানুষের হার তিনগুণ বাড়লেও (১১.৪% থেকে ৩৩.৭%), ইউরোপীয় গড় ৩৯.২ শতাংশের তুলনায় পর্তুগাল এখনও অনেক পিছিয়ে। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে স্বল্প-দক্ষ পেশাজীবীর হার এখানে সবথেকে বেশি (২৯.১%), যা ইউরোপীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। এই অসামঞ্জস্যতা দেশটির শ্রমবাজারকে এক অস্থির পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা কম থাকলেও (৭.৯%), গত দুই বছরে দেশটিতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের ‘উল্লম্ফন’ দেখা গেছে। ২০০০ সালে যেখানে মাত্র ১.৪ শতাংশ বিদেশি শ্রমিক ছিল, ২০২৪ সালের শেষে তা বেড়ে ৬.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মেধা আকর্ষণ এবং শ্রমবাজারের স্থায়িত্ব ধরে রাখতে পর্তুগাল এখন অভিবাসনের ওপর আগের চেয়ে অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।


