মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা এক ব্যক্তি, যিনি পড়তে বা লিখতে জানেন না, তাঁর ডিজিটাল কারসাজিতে ধরাশায়ী হয়েছেন খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাও। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে পাঁচটি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১৫,০০০ ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৯ লক্ষ টাকা) আত্মসাৎ করার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সাজা ঘোষণা করেছে দেশটির জেলা আদালত।
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত আলবার্তো (ছদ্মনাম) একটি স্থানীয় প্যারিশ কাউন্সিলের কবর খননকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও তিনি আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম ‘এমবি ওয়ে’ কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিরা, যারা প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ নন।
একটি ঘটনায় তিনি জিএনআর (ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড)-এর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে গাড়ি কেনার টোপ দিয়ে ফাঁদে ফেলেন। ভুক্তভোগী ওই অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করতে না জানায়, আলবার্তো তাঁকে কৌশলে অ্যাকাউন্ট সেটআপ করতে সাহায্য করার নাম করে পিন ও অ্যাক্সেস হাতিয়ে নেন। মুহূর্তের মধ্যেই ওই কর্মকর্তার অ্যাকাউন্ট থেকে ২,৫০০ ইউরো সরিয়ে ফেলেন তিনি।
পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ব্যক্তি ২০২০ সাল থেকেই একই কায়দায় প্রতারণা করে আসছিলেন। তাঁর প্রথম শিকার হারান ১৮০০ ইউরো। যদিও আলবার্তোর পরিবার দাবি করেছে, গ্রামীণ অভাবী পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন, কিন্তু আদালতের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। পুনর্বাসন ও কারা পরিষেবা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাঁর বিরুদ্ধে আগেও চুরি ও জালিয়াতির একাধিক রেকর্ড রয়েছে।
পোর্তালেগ্রে জেলা আদালত সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একজন নিরক্ষর ব্যক্তি যেভাবে দুর্ধর্ষ জালিয়াতি চালিয়েছেন, তা এখন ওই অঞ্চলের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


