২০২৫ সালে পর্তুগালে গড় মাসিক বেতন বেড়ে ১ হাজার ৬৯৪ ইউরোতে পৌঁছেছে। এটি দেশটির সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও শ্রম বাজারে আগের বছরের তুলনায় ভালো প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। কিন্তু তুলনা ও বাস্তব জীবনমানের দিক দিয়ে পর্তুগালের অবস্থান কেমন? এই প্রতিবেদনই তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ।
ইউরোপীয় দেশের তুলনায় পর্তুগাল
পর্তুগালের গড় বেতন ইইউ’র অনেক দেশের তুলনায় নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, ইইউ-গড় বার্ষিক বেতন প্রায় ৩৯ হাজার ৮০০ ইউরো (মাসিক ৩ হাজার ৩১৫ ইউরো), যা পর্তুগালের তুলনায় অনেক বেশি। পর্তুগাল ইইউ’র ১০টি দেশের মধ্যে ১০তম নিন্ম গড় বেতনে অবস্থান করছে। এর আগে বুলগেরিয়া, গ্রিস, হাঙ্গেরি এবং রোমানিয়ার মতো দেশের বেতনই কম ছিল।
অন্য দেশের কিছু তুলনামূলক উদাহরণ, লুক্সেমবার্গে বার্ষিক প্রায় ৮৩ হাজার ইউরো (ইইউ‑তে সর্বোচ্চ), ডেনমার্ক বার্ষিক ৭১ হাজার ৬০০ ইউরো এবং আয়ারল্যান্ডে ৬১ হাজার ১০০ ইউরো। এই তুলনায় পর্তুগালে গড় ঠিকই বাড়ছে, তবে ইইউ’র ধনী দেশগুলোর তুলনায় বেতন অনেক কম।
বেতন ও খরচ‑জীবনমান
পর্তুগালের জীবনযাত্রার খরচ পশ্চিম ইউরোপের কিছু দেশ থেকে অনেক কম। কেন্দ্রভাগে ১‑বেডরুম অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া, ৯০০-১০০০ ইউরো, খাবার‑পানীয় ১৫০-২০০ ইউরো এবং পরিবহন ৪০-৫০ ইউরো। এই তথ্য অনুযায়ী খরচ চাহিদা তুলনামূলক কম, তাই দেশটিতে জীবনযাপন অনেক মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মনে হয়।
জীবন যাত্রার তুলনা
যদিও বেতন তুলনায় কম, কয়েকটি কারণে পর্তুগালে জীবনযাত্রা সহজ বোধ করা হয়, ভাড়া এবং খাদ্যের খরচ অনেক পশ্চিম‑উত্তর ইউরোপের দেশে অপেক্ষাকৃত কম। মানুষের জীবনমান বিশ্বমানের, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধায় উচ্চ অবস্থান। তবে পারিপার্শ্বিক খরচ যেমন নানা কারণে ভিন্ন হতে পারে, বিশেষত লিসবন বা পোর্তো’র মতো বৃহৎ শহরে, তাই এখানে বেতন ও জীবনের ব্যালান্স অনেক ক্ষেত্রেই চাপ তৈরি করে।
বেতন কাঠামো এবং খাতভিত্তিক পার্থক্য
পর্তুগালের বিভিন্ন শিল্পের বেতনেও বিশাল পার্থক্য দেখা যায়, টেকনোলজি ও উচ্চ দক্ষ পেশা, সাধারণত ৩ হাজারেরও বেশি, যেমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা উচ্চ পেশাজীবী। শিক্ষা, পরিষেবা ও নিম্ন দক্ষ কাজে মাসিক বেতন হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৭৫০ ইউরো। এটা পরিষ্কার যে খাতে দক্ষতা ও পেশার ধরন দেশীয় গড় আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বানিয়ে বা ভাঙতে পারে।
বাস্তব সমস্যা ও কর্মবাজার
পর্তুগালের শ্রম বাজারে কিছু চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট; লিসবন‑এ মানুষের আয় খরচের তুলনায় অনেক বেশি অংশ ভাড়া‑খাতে খরচ হয়, এমনকি গড় বেতনের ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত। কিছু আন্তর্জাতিক কোম্পানিও একই কাজের জন্য অন্য দেশে তুলনামূল্য অনেক বেশি বেতন দিতে পারে, ফলে দক্ষ কর্মীরা অন্য দেশে কাজের সুযোগ খুঁজে নিচ্ছেন। এটি নির্দেশ করে যে শুধু বেতন বাড়লেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত হবে না, খরচ‑জীবনমান রিলেটিভ পারচেজিং পাওয়ার (ক্রয়ক্ষমতা) ও বাসস্থান খরচ নিয়ন্ত্রণও দরকার।
সিদ্ধান্ত
পর্তুগালের বেতন বৃদ্ধির প্রবণতা ইতিবাচক, কিন্তু ইইউ’র প্রায় সবাই দেশেই বেতন বেশি এবং ক্রয়ক্ষমতা‑ভিত্তিক বিশ্লেষণে ও জীবনমান‑ভিত্তিক তুলনায় পর্তুগালের অবস্থান এখনও প্রতিযোগিতামূলক না। এখানে আয় ও ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার, কোম্পানি ও শ্রমিকদের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।


