ফুটবল ইতিহাসের শতবর্ষ পূর্তির বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে স্পেন। স্পেনের ক্রীড়া ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ আয়োজনের জন্য দেশটি অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও সাংগঠনিক দিক থেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো। পাশাপাশি বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করা হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ফাইনাল ম্যাচ কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে বিশ্বজুড়ে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অবস্থিত সান্তিয়াগো বার্নাবেউ স্টেডিয়ামকে ফাইনাল আয়োজনের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভেন্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন করা এই স্টেডিয়ামে রয়েছে, সর্বাধুনিক ছাদ ব্যবস্থা, উন্নত নিরাপত্তা ও দর্শক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমানের সুযোগ-সুবিধা। স্পেনের ফুটবল কর্তৃপক্ষের মতে, বার্নাবেউ শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের একটি আইকন, যা শতবর্ষের বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য আদর্শ মঞ্চ হতে পারে।
স্পেনের ক্রীড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আমাদের অভিজ্ঞতা, অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বড় আসর আয়োজনের রেকর্ড রয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন করতে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। এর আগে স্পেন ১৯৮২ বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছিল। এছাড়া ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবল ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দেশটির রয়েছে।
যৌথ আয়োজক হওয়ায় পর্তুগাল ও মরক্কো থেকেও ফাইনাল আয়োজনের আগ্রহ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা, পরিবহন ও হোটেল অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এই তিন ক্ষেত্রে স্পেন তুলনামূলকভাবে এগিয়ে।
ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ২০৩০ বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করেনি। তবে আয়োজক দেশগুলোর প্রস্তুতি, কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা মূল্যায়নের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তার ঠিক ১০০ বছর পরের এই আসরকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় বিশ্বকাপ হিসেবে আয়োজন করতে চায় ফিফা। সে কারণেই ফাইনাল ভেন্যু নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি স্পেন ফাইনাল আয়োজনের দায়িত্ব পায়, তবে ২০৩০ বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়ে পরিণত হবে।


