সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইউরোপীয় শক্তিগুলো। সাইপ্রাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও গ্রিস তাদের অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা পূর্ব ভূমধ্যসাগরে টাইপ-৪৫ শ্রেণির শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন করছে। এই যুদ্ধজাহাজটি অত্যন্ত আধুনিক ‘সি ভাইপার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সজ্জিত, যা একই সাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম। এছাড়া ড্রোন হামলা ঠেকাতে জাহাজটির সাথে যুক্ত করা হয়েছে দুটি অগাস্টাওয়েস্টল্যান্ড এডাব্লিউ১৫৯ ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এক বার্তায় সাইপ্রাস ও সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের নিরাপত্তায় তাঁর সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বাল্টিক সাগর থেকে তাদের পারমাণবিক শক্তিচালিত প্রধান বিমানবাহী রণতরী চার্লস দা গল-কে ভূমধ্যসাগরে সরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রণতরীর সঙ্গে থাকবে শক্তিশালী ফ্রিগেট ও রাফাল যুদ্ধবিমান। ম্যাক্রোঁ জানান, সাইপ্রাসের সঙ্গে ফ্রান্সের কৌশলগত অংশীদারিত্বের খাতিরেই এই পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে রাফাল বিমান ও নজরদারি রাডার মোতায়েন করা হয়েছে, যা সরাসরি সাইপ্রাসের আকাশসীমায় সুরক্ষা দেবে।
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে গ্রিস চারটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং দুটি ফ্রিগেট পাঠিয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে যুক্ত আছে অত্যাধুনিক ‘সেন্টোরো’ অ্যান্টি-ড্রোন জ্যামিং সিস্টেম। ইয়েমেন উপকূলে হুথিদের ড্রোন হামলা ঠেকাতে এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এই সিস্টেমটি সমুদ্রপৃষ্ঠ ঘেঁষে উড়ে আসা অত্যন্ত নিচু স্তরের ড্রোনও শনাক্ত করে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম। গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেনডিয়াস স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় গ্রিস সবসময় সামরিকভাবে পাশে থাকবে।


