যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে কট্টর ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ বিক্ষোভ সমাবেশের সাক্ষী হলো লন্ডন। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, শনিবার লন্ডনের রাজপথে প্রায় ৫ লাখ মানুষ বর্ণবাদ এবং কট্টর ডানপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে এই বিশাল প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছেন।
‘টুগেদার অ্যালায়েন্স’ ও ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘বর্ণবাদকে না বলুন’, ‘ট্রাম্পকে না বলুন’ এবং ‘উদ্বাস্তুদের স্বাগতম’ সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে হোয়াইটহল পর্যন্ত পদযাত্রা করেন।
সমাবেশের সহ-আয়োজক কেভিন কোর্টনি হোয়াইটহলে সমবেত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমাদের হিসেবে আজ এখানে ৫ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছেন—যা কট্টর ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে ইতিহাসের বৃহত্তম বিক্ষোভ। এই উপস্থিতি আমাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”
আয়োজকরা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে টমি রবিনসনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ র্যালির তুলনায় এবারের জনসমাগম কয়েকগুণ বেশি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ওই ডানপন্থী সমাবেশে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
এই বিশাল সমাবেশে অংশ নিয়েছেন ব্রিটেনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ‘ইয়োর পার্টি’র এমপি জেরেমি করবিন ও জারা সুলতানা, গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি এবং স্বতন্ত্র এমপি ডায়ান অ্যাবট। ডায়ান অ্যাবট তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমার জীবদ্দশায় দেখা এটি বৃহত্তম বর্ণবাদবিরোধী পদযাত্রা। এত বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হওয়ার জন্য আপনাদের গর্বিত হওয়া উচিত।”
বিশাল এই সমাবেশ ঘিরে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। র্যালি চলাকালীন ন্যাশনাল গ্যালারির পিলারে ওঠার দায়ে ২ জন এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড বহনের অভিযোগে ১৮ জনসহ মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বিকেল ৫টার পর জনসমাগমের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জন স্যাভেল জানান, সপ্তাহান্তের এই ব্যস্ত সময়ে বিভিন্ন গ্রুপের বিক্ষোভ কর্মসূচি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, সে লক্ষ্যে বিশদ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।
একই দিনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি জোটের পদযাত্রাও মূল সমাবেশের সাথে হোয়াইটহলে যোগ দেয়। এছাড়া ইরান সরকারের বিরুদ্ধেও বেশ কিছু ছোট ছোট বিক্ষোভ কর্মসূচি লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার এলাকায় পালিত হয়েছে।
আয়োজক সাব্বি ধালু মনে করেন, শনিবারে এই অভূতপূর্ব জনসমাগম প্রমাণ করেছে যে ব্রিটেনের অধিকাংশ মানুষ ঘৃণা, বিভাজন এবং বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ।


