যুক্তরাজ্যের কেন্ট অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক মেনিনজাইটিস প্রাদুর্ভাবের ধরন শনাক্ত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, এই সংক্রমণের জন্য দায়ী মেনিনজোকক্কাল গ্রুপ বি নামের একটি ব্যাকটেরিয়া, যার বিরুদ্ধে অধিকাংশ মানুষের টিকা নেওয়া নেই।
ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) জানিয়েছে, বর্তমানে কিশোরদের যে মেনিনজোকক্কাল টিকা দেওয়া হয়, তা মূলত এ, সি, ডব্লিউ এবং ওয়াই গ্রুপের বিরুদ্ধে কার্যকর। কিন্তু গ্রুপ বি এই টিকার আওতায় পড়ে না, ফলে অনেকেই সুরক্ষাহীন রয়ে গেছেন।
বিশেষ করে ২০১৫ সালের আগে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে আছেন। কারণ ওই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর অধীনে শিশুদের জন্য মেনিনজাইটিস বি টিকা চালু হয়নি। ফলে এই বয়সসীমার অধিকাংশ মানুষ স্বাভাবিকভাবে এই রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষিত নন, যদি না তারা আলাদাভাবে টিকা গ্রহণ করে থাকেন।
এই প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে—একজন ফ্যাভারশাম এলাকার শিক্ষার্থী এবং অন্যজন ইউনিভার্সিটি অফ কেন্ট-এর ছাত্র। এছাড়া আরও কয়েকজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্যান্টারবেরি শহরের একটি নৈশক্লাবে ৫, ৬ ও ৭ মার্চ যারা গিয়েছিলেন, তাদের দ্রুত সতর্কতামূলক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংক্রমণ মূলত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। কারও সঙ্গে খাবার, পানীয় বা ইলেকট্রনিক ধূমপান যন্ত্র (ভেপ) ভাগাভাগি করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। যদিও ভেপিং একমাত্র কারণ নয়, তবে মুখের মাধ্যমে জীবাণু ছড়ানোর একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
লন্ডন স্কুল অফ হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন -এর সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিতভাবে মেনিনজাইটিস বি টিকা দেওয়া হতো না, এবং এই টিকার সুরক্ষা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় না।
এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য হেলেন অলিভিয়া বিকনেল হোয়াটলি সরকারকে নতুন করে ঝুঁকি মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন এবং তরুণদের জন্য ‘ক্যাচ-আপ’ টিকাদান কর্মসূচি চালুর বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মেনিনজোকক্কাল সংক্রমণের লক্ষণ শুরুতে হালকা মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যে তা গুরুতর রূপ নিতে পারে। তাই দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে কেন্ট অঞ্চলে অ্যান্টিবায়োটিক বিতরণের জন্য একাধিক কেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সচেতন থাকার এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।


