যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অভিবাসন ইস্যু দীর্ঘদিন ধরেই অন্যতম স্পর্শকাতর ও ভোটনির্ধারক প্রশ্ন। সেই প্রেক্ষাপটে ‘যুক্তরাজ্য সংস্কার পার্টি’ নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে আইসিই-ধাঁচের একটি বিশেষ বহিষ্কার সংস্থা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর আদলে একটি শক্তিশালী, কেন্দ্রীয় ও দ্রুত-কার্যকরী প্রয়োগকারী ইউনিট গঠন করা হবে, যার প্রধান কাজ হবে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা।
দলটির শীর্ষ নেতা নাইজেল ফ্যারাজ যুক্তি দিয়েছেন যে বর্তমান অভিবাসন ব্যবস্থায় কার্যকারিতা ও নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আশ্রয় আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, আপিল প্রক্রিয়ার জটিলতা এবং মানবাধিকার আইনের বিভিন্ন ধারা বহিষ্কার কার্যক্রমকে ধীর করে দিচ্ছে। ফলে সরকার চাইলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে তা আটকে যায়। প্রস্তাবিত সংস্থাটি এসব আইনি ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে বলে দলটি দাবি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব মূলত ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট অংশকে লক্ষ্য করেই আনা হয়েছে—বিশেষত যারা সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করেন। ইংলিশ চ্যানেল হয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের আগমন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। রিফর্ম ইউকে বলছে, শক্তিশালী প্রয়োগকারী সংস্থা না থাকায় এই প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। তাদের পরিকল্পনায় সীমান্ত নজরদারি জোরদার, দ্রুত আটক প্রক্রিয়া, বিদেশি অপরাধীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে বহিষ্কার এবং প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে সমালোচকরা সতর্ক করছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই মডেল নিয়ে যেসব মানবাধিকার বিতর্ক রয়েছে, তা যুক্তরাজ্যেও পুনরাবৃত্ত হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি আটক, পরিবার বিচ্ছিন্নতা এবং আপিল প্রক্রিয়া সীমিত করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক শরণার্থী সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা একটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ হবে বলেও অনেকে মনে করছেন।
রাজনৈতিকভাবে এ প্রস্তাবটি শাসক ও বিরোধী দলগুলোর ওপরও চাপ তৈরি করছে। অভিবাসন ইস্যুতে তুলনামূলক কঠোর অবস্থান না নিলে ভোট হারানোর আশঙ্কা রয়েছে, এমন ধারণা অনেক বিশ্লেষকের। ফলে নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয় নীতি এবং বহিষ্কার প্রক্রিয়া, এই তিনটি বিষয় যে প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে, তা স্পষ্ট। রিফর্ম ইউকের আইসিই-ধাঁচের সংস্থার প্রতিশ্রুতি তাই শুধু একটি নীতিগত ঘোষণা নয়; বরং এটি যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক অভিবাসন বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলেছে।


