হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে স্পেনের কড়া সমালোচনা শোনার সময় জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে স্পেন। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প যখন মাদ্রিদকে শুল্ক এবং বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিচ্ছিলেন, তখন ম্যার্ৎস প্রয়োজনীয় ‘সংহতি’ প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্প স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকারের কড়া সমালোচনা করে তাদের ভূমিকা ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, স্পেন তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না এবং প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫% ব্যয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্ষুব্ধ ট্রাম্প স্পেনের সঙ্গে ‘সব ধরণের চুক্তি ও বাণিজ্য’ বন্ধের জন্য তার অর্থমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।
বুধবার সংবাদমাধ্যম আরটিভিই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে মানুয়েল আলবারেস বলেন, “ম্যার্ৎসের প্রতিক্রিয়া দেখে আমি বিস্মিত। যখন আপনি একই মুদ্রা এবং সাধারণ বাজার ভাগাভাগি করেন, তখন বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই নিয়ম।” তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ডেনমার্ক যখন ট্রাম্পের হুমকির মুখে পড়েছিল, স্পেন তখন ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
ম্যার্ৎসের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন:”আমরা ম্যার্কেল ও শলৎসের সময়ও জার্মানির সঙ্গে কাজ করেছি। তারা চ্যান্সেলর থাকাকালীন ইউরোপীয় সংহতি অন্য উচ্চতায় ছিল। ম্যার্কেল বা শলৎস এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকতেন, তা কল্পনাও করা যায় না।”
তবে সমালোচনার মুখে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস দাবি করেছেন, তিনি ট্রাম্পকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যম এআরডি-কে তিনি বলেন, “আমি তাকে (ট্রাম্প) বলেছি যে জার্মানি বা স্পেনকে আলাদা করে কোনো চুক্তি করা সম্ভব নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন হিসেবে আমরা সবাই একই নৌকার যাত্রী। বাণিজ্য আলোচনা হলে সবার সঙ্গে হবে, নাহলে কারো সঙ্গেই নয়।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শক্তিশালী দেশ জার্মানি ও স্পেনের মধ্যে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন ইইউ-র অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


