যুক্তরাজ্যের শান্ত সড়কগুলো হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ লন্ডনের ক্ল্যাপহ্যাম থেকে শুরু করে ম্যানচেস্টারের রচডেল সবখানেই কিশোর ও তরুণদের আচমকা জমায়েত আর বিশৃঙ্খলা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। তবে এই তাণ্ডব কোনো সাধারণ হুজুগ নয়; গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এর পেছনে এক শক্তিশালী ‘অদৃশ্য ডিজিটাল নেটওয়ার্ক’ এবং রহস্যময় অ্যালগরিদমের কারসাজি দেখতে পাচ্ছেন।
সম্প্রতি ‘ক্ল্যাপহ্যাম কোর্ট লিঙ্ক-আপ’ নামের একটি কর্মসূচির অধীনে শত শত মুখোশধারী তরুণ ক্ল্যাপহ্যাম হাই স্ট্রিটে জড়ো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই এই জমায়েত সহিংসতায় রূপ নেয়, যেখানে পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীরা বলছেন, এই জমায়েতগুলো কোনো নির্দিষ্ট নেতা ছাড়া সম্পূর্ণ অ্যালগরিদমিক পুশ-এর মাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। অবাক করা বিষয় হলো, এই উসকানির উৎস এমন সব ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, যাদের সাথে স্থানীয় এলাকার কোনো ভৌগোলিক সম্পর্কই নেই।
আগামী মে মাসে যুক্তরাজ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই আকস্মিক অস্থিরতা মূলত কমিউনিটি পুলিশিং এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পরিকল্পিত ‘স্ট্রেস টেস্ট’। কোনো বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল পর্দার আড়াল থেকে এই ‘ফ্ল্যাশ-মব’ স্টাইলের বিশৃঙ্খলা তৈরি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যাতে সেটিকে রাজনৈতিক প্রচারণায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
রচডেল টাউন সেন্টারে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করায় প্রশাসন সেখানে ৪৮ ঘণ্টার ‘ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ’ জারি করতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে ছুটির মৌসুমেও স্থানীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ইন্সপেক্টর মিনা ইয়াসিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা এই সংঘাতকে খেলা হিসেবে দেখছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে আন্দোলনের কোনো দৃশ্যমান নেতা না থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর এখন ডিজিটাল প্রতিরোধের দিকে ঝুঁকছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা ‘রেসপেক্ট অর্ডার’ প্রবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হবে সেই সব পর্দার আড়ালের ‘ডিজিটাল ইনফ্লুয়েন্সার’ বা সংগঠক, যারা নিজেরা রাজপথে নামে না কিন্তু লজিস্টিকস সরবরাহ করে বিশৃঙ্খলা উসকে দেয়। টেক প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে আইনি সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রথম আতশবাজি জ্বলার আগেই উসকানি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে সরকার।


