পর্তুগালে অভিবাসীদের পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবে ইউরোপীয় কমিশন। পর্তুগিজ সরকারের অনুরোধে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিবাসন সংকটের কারণে শরণার্থী গ্রহণের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে পর্তুগালের সরকার। তাদের যুক্তি হলো, অভিবাসন সংকটে পড়ে দেশটির আর আরও অভিবাসী নেওয়ার অবস্থা নেই।
পর্তুগালে অবনতি হতে থাকা অভিবাসন পরিস্থিতির ওপর পর্তুগাল সম্প্রতি যে বাড়তি তথ্য দিয়েছে, তা বিশ্লেষণ করছে ইউরোপীয় কমিশন। সরকারকে পাঠানো এক চিঠিতে স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউরোপীয় কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেছেন, সংস্থাটি একটি নতুন মূল্যায়ন এবং যথাযথ পরবর্তী পদক্ষেপ প্রস্তাব করবে।
ইউরোপীয় সংহতি ব্যবস্থার অধীনে ২১ হাজার আশ্রয়প্রার্থীকে ইউরোপের দেশগুলোতে পুনর্বণ্টনের জন্য ব্রাসেলসের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে পর্তুগাল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে চিঠিটি পাঠিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। একইরকম মনোভাব দেখিয়েছে হাঙ্গেরি এবং স্লোভাকিয়া। তারাও প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। তারা মনে করছে, সিদ্ধান্তের ভিত্তি হিসেবে ভূমিকা রাখা তথ্যগুলো পুরনো সংখ্যার উপর ভিত্তি করে।
প্রস্তাব মানতে না চাইলেও, পর্তুগালসহ আঠারোটি দেশকে ২০২৬ সালের জুন থেকে ওই আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রহণ করতে হবে, অথবা অন্যদের তা করার জন্য অর্থ প্রদান করতে হবে।
পর্তুগাল প্রেসিডেন্সির মন্ত্রী আন্তোনিও লেইতাও আমারো জোর দিয়ে বলেছেন, তার দেশ অভিবাসী চাপে ভুগছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ইউরোপীয় প্রতিবেদনগুলো একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছে না। কারণ হিসেবে তিনিও একই কথা বলছেন, এখনও সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান আমলে নেওয়া হয়নি (২০২৪ সালে ৪ লাখ ৪০ হাজার আগ্রহ এবং মোট ১.৫ মিলিয়ন বিদেশী)।
চিঠিতে ম্যাগনাস ব্রুনার ইউরোপীয় অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় পর্তুগালের ভূমিকা তুলে ধরেছেন। আরও বিধিনিষেধমূলক নীতিমালাসহ যেমনটি সাম্প্রতিক প্রবণতাও তুলে ধরা হয়েছে।
পর্তুগাল সরকার অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় গতি আনার জন্য নতুন নিয়ম প্রচার করছে। ব্রুনার লিসবনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এই ক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য কর্তৃপক্ষ যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তা ইউরোপীয় কমিশন লক্ষ্য করছে। প্রক্রিয়াটি মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে সম্পন্ন হবে বলে চিঠিতে জানিয়েছেন তিনি।


