২০২৫ সালে পর্তুগালে ৮৭ হাজার৭০০রও বেশি শিশুর জন্ম হয়েছে। সংখ্যাটি গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। পর্তুগালের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ-এর ডা. রিকার্ডো জর্জের অধীনে পরিচালিত ‘ন্যাশনাল নিওনেটাল স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম’ বা হিল প্রিক টেস্ট থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছর মোট ৮৭ হাজার ৭০৮ জন নবজাতকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি ২০২৪ সালের হিসাব ৮৪ হাজার ৬৩১ জনের তুলনায় ৩ হাজার ৭৭ জন বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের মাত্র দুটি অঞ্চলে আগের বছরের তুলনায় জন্মহার কমেছে। মাদেইরাতে সংখ্যাটি ১হাজার ৭০৪ জন, যা আগের চেয়ে ৪৮ জন কম। আর সান্তারেমে ২ হাজার ৮৫২ জন শিশু জন্মেছে, যা আগের চেয়ে ২২ জন কম। পোর্তালেগ্রেতে ৫৭৪ জন শিশু পৃথিবীতে এসেছে। ৫৮৭ জনের জন্মের খবর পাওয়া গেছে ব্রাগানসায়। এই দুটি জেলায় সবচেয়ে কম পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে জেলাদুটিতেই গত বছরের তুলনায় স্ক্রিনিংয়ের সংখ্যা যথাক্রমে ২৭ এবং ৯৩ জন বেড়েছে।
এবার বেশি নবজাতকের জন্মের খবর নেওয়া যাক। লিসবনে ২৬ হাজার ৫৯৫ জন শিশু জন্মেছে, যা ২০২৪ সালের চেয়ে ৭৩৯ জন বেশি। পোর্তোতে সংখ্যাটি ১৫ হাজার ২৫৫ জন। আগের চেয়ে এখানে ৭৩৩ জন বেশি শিশু পৃথিবীতে এসেছে। ব্রাগায় জন্মগ্রহণ করেছে ৬ হাজার ৫৩৪ জন শিশু। সেখানে ২৪৬ জন বেশি শিশু জন্মানোর তথ্য মিলেছে।
তথ্যমতে, গেল জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি শিশুর তথ্য হাতে এসেছে। সংখ্যাটি ৮ হাজার ১১৮ জন। তাররপর অক্টোবর মাসে ৮ হাজার ১০৪ জন শিশু স্ক্রিনিং করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ৭ হাজার ৮৮৬ জন শিশুর তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল।
হিল প্রিক টেস্ট হলো শিশুর জন্মের ৩য় থেকে ৬ষ্ঠ দিনের মধ্যে গোড়ালি থেকে এক বা দুই ফোঁটা রক্ত নিয়ে করা একটি পরীক্ষা। এর মাধ্যমে বিরল জন্মগত রোগ শনাক্ত করা হয়, যেন দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। লুসা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া আইএনএসএ-র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত মোট ৪৩ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮৯ জন নবজাতকের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। তখন ২ হাজার ৯৬৩টি বিরল রোগের কেস ধরা পড়েছে।
২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া উল্লেখযোগ্য রোগগুলো আর সেগুলোর কেস সংখ্যা যথাক্রমে: বংশগত মেটাবলিক ডিজিজ: ৫৭টি, জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম: ২৬টি, সিকল সেল অ্যানিমিয়া: ৪৭টি, স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি: ১০টি, সিস্টিক ফাইব্রোসিস: ৬টি। সিভিয়ার কম্বাইন্ড ইমিউনোডেফিসিয়েন্সির ১টি কেস পাওয়া গিয়েছে। মোট ১৪৭টি বিরল কেস শনাক্ত হয়েছে।


