ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর পাঠানো একটি ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড দখল ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে যখন কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে, ঠিক সেই সময় এই বার্তা প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ট্রাম্প।
নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে স্ক্রিনশটটি প্রকাশ করেন ট্রাম্প। পোস্টটির শিরোনাম ছিল, ফ্রান্সের হয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর বার্তা। স্ক্রিনশটে থাকা বার্তাটি যে সত্য, তা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন মাখোঁর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র। তবে বার্তাটি ঠিক কবে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো পক্ষই নির্দিষ্ট তথ্য জানায়নি।
স্ক্রিনশটের শুরুতেই লেখা ছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। এরপর মাখোঁ লিখেছেন, আমার বন্ধু, সিরিয়ার বিষয়ে আমরা পুরোপুরি একমত। ইরান নিয়েও আমরা বড় কিছু করতে পারি। তবে আমি বুঝতে পারছি না, আপনি গ্রিনল্যান্ডে কী করছেন। চলুন, বড় কিছু করার চেষ্টা করি।
বার্তায় বড় কিছুর সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি প্রস্তাব দেন, সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার প্যারিসে জি–৭ সদস্যদেশগুলোর একটি বৈঠক আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে ইউক্রেন, ডেনমার্ক ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি প্যারিসে নৈশভোজে অংশ নিতে ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানান মাখোঁ।
গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের একের পর এক হুমকির বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশির ভাগ নেতাই সরব হয়েছেন। তবে এই ইস্যুতে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক হাতিয়ার ব্যবহারের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া ডেনমার্কের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গ্রিনল্যান্ডে ফরাসি সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মাখোঁ, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্যারিসের সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলেছে।
মাখোঁর অবস্থানের জবাবে ট্রাম্পও কঠোর ভাষায় পাল্টা হুমকি দিয়েছেন। ফিলিস্তিনের গাজা পরিচালনায় তদারকির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে রাখতে চান না ট্রাম্প। এই বোর্ডের মাধ্যমে গাজায় জাতিসংঘের ভূমিকা সীমিত হতে পারে, এমন আশঙ্কা আগেই প্রকাশ করেছে ফ্রান্স। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি কি সত্যিই এমন কথা বলেছেন? ভালো কথা। তাঁকে কেউ চায় না। কারণ খুব শিগগিরই তাঁকে পদ ছাড়তে হবে। এ সময় আরও এক ধাপ এগিয়ে ট্রাম্প হুমকি দেন, ফ্রান্সের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর আমি ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব।
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশট প্রকাশ করা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বড় ধরনের লঙ্ঘন। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আরও গভীর করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
গ্রিনল্যান্ড, গাজা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য, সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও প্যারিসের সম্পর্ক এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব রাজনীতি।


