দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপজুড়ে জনতাবাদ ও রাজনৈতিক বিভাজনের অন্যতম ইস্যু হয়ে ওঠা অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন আশার আলো দেখছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার। তাঁর মতে, নতুন ‘ইইউ প্যাক্ট অন অ্যাসাইলাম অ্যান্ড মাইগ্রেশন’ জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।
ইউরোনিউজের জনপ্রিয় সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান ‘দ্য ইউরোপ কনভারসেশন’-এ অংশ নিয়ে ব্রুনার বলেন, আমাদের জনগণের আস্থা আবার ফিরে পেতে হবে। অভিবাসন এমন একটি বিষয়, যা সবার হৃদয়ের কেন্দ্রে।
অস্ট্রিয়ার নাগরিক ব্রুনার বলেন, এই নতুন চুক্তিই প্রথমবারের মতো ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এমন একটি সমঝোতা তৈরি করেছে, যা দীর্ঘদিনের অভিবাসন সংকট সমাধানে কার্যকর ভিত্তি হতে পারে। তিনি স্বীকার করে বলেন, চুক্তিটি নিখুঁত নয়। “সবকিছু নেই, কিছু ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু আমি সবসময় বলি, শূন্যের চেয়ে ৭০ শতাংশ ভালো। তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই চুক্তির বাস্তবায়ন।
নতুন প্যাক্টটি চারটি মূল নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। স্ক্রিনিং ও দ্রুত সীমান্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাহ্যিক সীমান্ত সুরক্ষা, দ্রুত ও কার্যকর আশ্রয়প্রক্রিয়া, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংহতি ও দায়বদ্ধতার কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে যুক্ত করা
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও কাউন্সিলের অনুমোদনের পর, এই নতুন নিয়মগুলো ২০২৪ সালে কার্যকর হয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুন থেকে পুরোপুরি বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা।
ব্রুনার বলেন, আমরা সঠিক পথেই আছি, তবে তিনি স্বীকার করেন যে রিটার্ন রেগুলেশন, নিরাপদ তৃতীয় দেশ এবং নিরাপদ উৎস দেশ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অসম্পূর্ণ।
প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রশ্নে, ব্রুনার বলেন, তালেবান বা এ ধরনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রযুক্তিগত পর্যায়ে কথা বলা ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এটা আনন্দের নয়, সহজও নয়। কিন্তু যোগাযোগ না করাও কোনো বিকল্প হতে পারে না। জার্মানির তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করে আফগান নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর উদ্যোগের প্রসঙ্গে তিনি এই মন্তব্য করেন।
২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে মানবাধিকার, বিশেষ করে নারীদের অধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে, এই বাস্তবতায় জার্মানির উদ্যোগ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকদের মতে, তালেবানের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে গেলে তাদের বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে ব্রুনারের স্পষ্ট বক্তব্য, কথা বলার সঙ্গে সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া বা সম্মান জানানো এক বিষয় নয়। আমরা তা করছি না।
ইইউর বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে অবৈধ অভিবাসীদের পাঠানোর ধারণা, যাকে বলা হচ্ছে ‘রিটার্ন হাব’, এই উদ্যোগকেও সমর্থন জানিয়েছেন ব্রুনার। তিনি বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য নতুন ও উদ্ভাবনী সমাধান খোঁজার সুযোগ থাকা দরকার। রিটার্ন হাব তারই একটি উদাহরণ। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইইউ কমিশন সব সদস্য রাষ্ট্রের হয়ে এই আলোচনায় যাবে না; বরং একটি কাঠামো তৈরি করে দেবে, যাতে দেশগুলো নিজেরা উদ্যোগ নিতে পারে।
সম্প্রতি রোমে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে এক বৈঠকের কথাও জানান ব্রুনার। ক্যাথলিক ব্রুনার বলেন, মানবাধিকার রক্ষা ও মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, এই দুটি বিষয়ে পোপের সঙ্গে তাঁর পূর্ণ ঐকমত্য রয়েছে। মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে, একই সঙ্গে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়তেও হবে। পোপ এ বিষয়ে পুরোপুরি একমত।


