দীর্ঘ এক দশকের প্রবাসজীবন, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্নের পেছনে ছোটা, সবশেষে ইতালির নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন মোক্তার সরকার। কোটি টাকা ব্যয়ে কিনেছিলেন নিজের বাড়ি, গড়েছিলেন ব্যবসা। স্বপ্ন ছিল স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ইতালিতে স্থায়ীভাবে বসতি গড়ার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, সে স্বপ্ন আর বাস্তব হলো না। দেশে ছুটিতে এসে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করলেন তিনি।
মোক্তার সরকার (৪৪) নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের পারবোর্ণি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত আবুল হোসেনের ছেলে। মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইতালিতে পাড়ি জমান মোক্তার সরকার। শুরুতে নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে পথ চললেও ধীরে ধীরে তিনি স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলেন। ইতালির একজন নাগরিকের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি একটি অটোমোবাইল সার্ভিস সেন্টার পরিচালনা করতেন, যা স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত ছিল।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সম্প্রতি তিনি ইতালির নাগরিকত্ব অর্জন করেন। এরপর ইতালির ফরমিয়া শহরে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আবাসিক বাড়ি কেনেন। এই বাড়িতেই স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নাগরিকত্ব ও বাড়ি কেনার পরই স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইতালিতে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেন মোক্তার সরকার। পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যেই গত ২১ জানুয়ারি তিনি ছুটিতে দেশে ফেরেন। পরিকল্পনা ছিল, ছুটি শেষে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে ইতালিতে ফিরে যাবেন।
কিন্তু মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি। সঙ্গে বমি শুরু হলে দ্রুত তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী রত্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী নিজের সব জমি বিক্রি করে আর প্রবাসে উপার্জন করা টাকায় ইতালিতে বাড়ি কিনেছিলেন। আমাদেরকেও নিয়ে যাওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ করেছিলেন। ভাবিনি, এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তানসহ পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।
নিহতের ছোট ভাই ফজল সরকার বলেন, আমার ভাই দেশের সব সম্পদ বিক্রি করে ইতালিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। এখন সেখানে থাকা বাড়ি ও ব্যবসার অর্থ যেন আমার ভাবি ও ভাতিজিরা পায়, সে জন্য আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই।


