পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে কর্মরত অবস্থায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি যুবক কামরুল হোসেন (২৫)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে কন্সট্রাকশন সাইটে কাজ করার সময় একটি সিমেন্টভর্তি বস্তা মাথায় পড়ে গুরুতর আহত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত কামরুল হোসেন সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার হরিয়রপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল মালিকের পুত্র। প্রায় চার বছর ধরে তিনি পর্তুগালে বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কামরুল হোসেন সম্প্রতি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে লিসবন থেকে বিমানে মাদেইরার রাজধানী ফুনশাল শহরে পৌঁছান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আত্মীয়ের বাসায় খাওয়া-দাওয়া শেষে দুপুর ১২টায় তিনি কন্সট্রাকশনের কাজে যোগ দেন।
কাজ চলাকালীন বিকেল আনুমানিক ৩টার সময় অসাবধানতাবশত উপর থেকে একটি ভারী সিমেন্টভর্তি বস্তা তার মাথায় পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেসবুক ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্যমতে, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি লিসবনের বেনফরমচো রোড এলাকায় পরিচিতজনদের সঙ্গে চা-নাস্তা করে বিদায় নেন। এরপর রাতে আদিভিলাসে অবস্থান করে পরদিন ভোর ৬টার ফ্লাইটে মাদেইরার উদ্দেশে রওনা হন। কেউ কল্পনাও করেনি, সেটিই হবে তার শেষ যাত্রা।
কামরুল হোসেন সম্প্রতি বহু প্রতীক্ষার পর পর্তুগালের রেসিডেন্স কার্ড হাতে পান। পরিবারের সঙ্গে দেশে ফিরে বিয়ে করার স্বপ্ন ছিল তার। প্রবাসজীবনের কষ্ট শেষে নতুন করে জীবনের পথচলা শুরু করার আশা নিয়েই তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রেসিডেন্স কার্ড হাতে পাওয়ার পর দেশে ফেরার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবায়িত হলো কেবল কফিনবন্দী লাশ হয়ে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে।
তার মৃত্যুর খবরে পর্তুগালসহ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার হরিয়রপুর গ্রামে নেমে এসেছে হৃদয়বিদারক মাতম। পরিবার এখন লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে।
কামরুল হোসেনের মৃত্যু আবারও প্রমাণ করে, মৃত্যু আমাদের কতটা সন্নিকটে, তা কেউ জানে না। জীবনের নিরাপত্তা ও শ্রমিক সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এই দুর্ঘটনা। রেসিডেন্স কার্ড, যা হাজারো প্রবাসী যুবকের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—তা হাতে পাওয়ার পরও জীবনের নিশ্চয়তা দেয় না, এই নির্মম সত্য আবারও সামনে এলো।


