যত স্বপ্ন, তত মজুরি নয়। বাস্তবতা অনেক সময় মুদ্রার অঙ্কে ধরা পড়ে না। ইউরোপজুড়ে লাখো শ্রমিকের জীবনে ন্যূনতম মজুরি যেন বেঁচে থাকার শেষ সীমানা। কিন্তু এই সীমা কি সত্যিই জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট? ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যূনতম মজুরির ব্যবধান আকাশ–পাতাল।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ন্যূনতম মজুরি বুলগেরিয়ায়। মাসে মাত্র ৫৫১ ইউরো। আর সবচেয়ে বেশি লুক্সেমবার্গে। ২,৭০৪ ইউরো। প্রার্থী দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেন সবার নিচে। যেখানে ইউরোর হিসেবে ন্যূনতম মজুরি মাত্র ১৬৪ ইউরো।
উপার্জনকারী দেশগুলোকে ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করেছে ইউরোস্ট্যাট। উচ্চ আয়ের গ্রুপে রয়েছে লুক্সেমবার্গ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, বেলজিয়াম। এসব দেশে মাসিক মজুরি ২,০০০ ইউরোর বেশি। মধ্যম গ্রুপে রয়েছে স্পেন, স্লোভেনিয়া, পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া, গ্রিস, পর্তুগাল ও সাইপ্রাস। এসব দেশে ন্যুনতম মজুরি ১,০০০ থেকে ১,৫০০ ইউরো। নিম্ন গ্রুপে রয়েছে ক্রোয়েশিয়া থেকে শুরু করে সার্বিয়া পর্যন্ত। এসব দেশে ন্যুনতম মজুরি মাত্র ৬০০ থেকে ৯৯৯ ইউরো। আর খুব নিম্ন গ্রুপে রয়েছে উত্তর মেসিডোনিয়া, তুরস্ক, বুলগেরিয়া, আলবেনিয়া, মলদোভা ও ইউক্রেন। এই দেশগুলোতে মজুরি এমনকি ৬০০ ইউরোর নিচে।
পূর্ব ইউরোপ ও বলকান অঞ্চলের চেয়ে পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপে মজুরি অনেক বেশি। এই ব্যবধান মূলত অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা, উচ্চ প্রযুক্তির শিল্প এবং শ্রমিকদের দর-কষাকষি ক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।
তবে ন্যুনতম মজুরির এই ফারাক ক্রয়ক্ষমতার মানদণ্ডে (PPS) অনেক কমে আসে। যেমন— লুক্সেমবার্গের মজুরি বুলগেরিয়ার চেয়ে ৪.৯ গুণ বেশি হলেও ক্রয়ক্ষমতায় পার্থক্য ২.৩ গুণ। এখানে আশ্চর্যজনকভাবে আলবেনিয়া সবচেয়ে নিচে। আর জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়াম শীর্ষে।
পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ ইউরোতে কম আয় করলেও ক্রয়ক্ষমতায় অন্য অনেক পশ্চিমা দেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে চলে এসেছে। যেমন উত্তর মেসিডোনিয়া, তুরস্ক, মন্টেনেগ্রো। এমনকি রোমানিয়াও। তবে এস্তোনিয়া ও চেকিয়া এই তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।
গত ৬ মাসে উত্তর মেসিডোনিয়ায় সবচেয়ে বেশি মজুরি বেড়েছে। প্রায় ৭.৭%। গ্রিসে বেড়েছে ৬.১%। বিপরীতে তুরস্কে কমেছে ২১.২%, ইউক্রেনে ৯.৯%। মুদ্রার বিনিময় হার ও মুদ্রাস্ফীতি এই পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
গত এক বছরে মন্টেনেগ্রো ও উত্তর মেসিডোনিয়ায় মজুরি বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি। আর ক্রোয়েশিয়া ও লিথুয়ানিয়ায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখেছে। তবে ফ্রান্স, স্পেন ও জার্মানিতে এই বৃদ্ধির হার খুবই সামান্য। মুদ্রাস্ফীতি হিসেব করলে বাস্তব আয় আরও কম।
এত হিসেব নিকেশের পরেও প্রশ্ন থেকে যায় ন্যূনতম মজুরি কি কেবল আইনের বইয়ে থাকা অঙ্ক, নাকি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনার সত্যিকার হাতিয়ার? ইউরোপজুড়ে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এখন সময়ের দাবি।


