আগামী ১২ই অক্টোবর থেকে ইউরোপ ভ্রমণে নতুন নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। ঐ দিন থেকে শেনজেন অঞ্চলের ২৯টি দেশে ভ্রমণকারী সব অ-ইইউ নাগরিককে সীমান্তে ডিজিটাল এন্ট্রি অ্যান্ড এক্সিট সিস্টেম (ইইএস) এর আওতায় নিবন্ধন করতে হবে। সেভেন নিউজ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় শেনজেন এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় ভ্রমণকারীদের আঙুলের ছাপ ও ছবি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত কর্মকর্তারা কিছু ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিটি যাত্রীর জন্য একটি বায়োমেট্রিক রেকর্ড তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে। পরবর্তী তিন বছরের মধ্যে কেউ আবার শেনজেন এলাকায় ভ্রমণ করলে শুধু ছবি বা আঙুলের ছাপ দিলেই চলবে। তবে এর আগে কোনো ধরনের অনলাইন নিবন্ধন বা ফরম পূরণের দরকার নেই।
ইইএসে নিবন্ধন করতে কোনো ফি লাগবে না এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। তবে অক্টোবরের শুরুতে যাত্রীরা সীমান্তে দীর্ঘ অপেক্ষমান সারির মুখে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করা হয়েছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ধীরে ধীরে এ ব্যবস্থা চালু করবে এবং আগামী বছরের ১০ই এপ্রিলের মধ্যে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করবে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকরা ভিসা ছাড়া শেনজেন এলাকায় সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকতে পারবেন। এই সময়সীমা ১৮০ দিনের মধ্যে গণনা করা হবে। এটি পাসপোর্টের সঙ্গে নয়, বরং ব্যক্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ একাধিক পাসপোর্ট ব্যবহার করলেও সময়সীমা বাড়বে না।
যারা অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করবেন, তাদের ‘ওভারস্টেয়ার’ বা ‘নির্ধারিত সময়ের চাইতে বেশি সময় ধরে অবস্থানকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। ইইএসের মাধ্যমে এসব তথ্য সংরক্ষিত হবে, যা পরবর্তীতে জরিমানা, আটক বা ইউরোপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে।
শেনজেনভূক্ত দেশগুলো হল:
অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, আইসল্যান্ড, লিচেনস্টেইন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড।


