জার্মানিতে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের বহিষ্কার আদেশ কার্যকরের সময় তাদের কক্ষে প্রবেশ ও তল্লাশি করার ক্ষেত্রে পুলিশকে আদালতের অনুমতি নিতে হবে। সার্চ ওয়ারেন্ট বা তল্লাশি পরোয়ানা ছাড়া এখন থেকে কোনো অভিবাসীর ঘরে ঢুকে বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতে পারবে না পুলিশ। জার্মানির কার্লসরুহের ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক রায়ে এই নির্দেশনা দিয়েছে।
গিনি থেকে আসা এক অভিবাসীর দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে জার্মানির শীর্ষ সাংবিধানিক আদালত। রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত বহিষ্কারের ক্ষেত্রে বিচারকের অনুমতি নিয়েই আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কোনো অভিবাসীর কক্ষ তল্লাশি করা যাবে। এই রায় অভিবাসন নীতিতে মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষা নতুন করে নিশ্চিত করলো।
মামলার সূত্রপাত
এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ের সূত্রপাত ২০১৯ সালের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডাবলিন নীতি অনুযায়ী গিনি থেকে আসা এক অভিবাসীকে ইতালিতে ফেরত পাঠাতে চেয়েছিল জার্মান কর্তৃপক্ষ। বহিষ্কারের জন্য তাকে আটক করার চেষ্টার সময় বার্লিনের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে কক্ষ তল্লাশির ঘটনা ঘটে।
ঐ অভিবাসী দরজা খুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ কর্মকর্তারা আদালতের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক তার কক্ষে প্রবেশ করতে দরজা ভেঙে ফেলেন। আটক করার চেষ্টার পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তারা ওই অভিবাসীর মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনের মতো ব্যক্তিগত সামগ্রীও জব্দ করেছিলেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, এই ব্যক্তিগত সামগ্রী জব্দ করার ক্ষেত্রেও পুলিশের কোনো আদালতের অনুমতি ছিল না।
এর আগে বার্লিন-ব্রান্ডেনবুর্গের উচ্চ প্রশাসনিক আদালত এক রায়ে পুলিশের এমন কর্মকান্ড আইনসম্মত বলে জানিয়েছিল। এজন্য যুক্তি ছিল, এটি পুলিশের ‘সিম্পল এন্ট্রি’ বা ‘সহজে প্রবেশ’ করার অধিকারের মধ্যে পড়ে, যার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয় না।
তবে ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত এই রায়কে বাতিল করে দিয়েছে। সাংবিধানিক আদালত বলেছে, এই পদক্ষেপগুলো ‘সিম্পল এন্ট্রি’-র উদাহরণ নয়। বল প্রয়োগের কারণে এটি একটি ‘তল্লাশি’ (Search) হিসেবে গণ্য হবে, যার জন্য আগেই বিচারকের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।
কার্লসরুহের শীর্ষ বিচারকেরা আরও বলেছেন…
সেদিন কর্তৃপক্ষ যখন দরজা ভাঙছিলো, তখন তারা অভিবাসীর সঠিক অবস্থান জানতেন না। তাই আইনগতভাবে এই কাজটি ‘তল্লাশি’ হিসেবে গণ্য হবে, ‘সিম্পল এন্ট্রি’ নয়।
রায়ে বিচারকেরা লিখেছেন…
দেশ ছাড়ার (আইনগতভাবে কার্যকর) বাধ্যবাধকতা মানতে ব্যর্থ হওয়া কোনো জরুরি বিপদের কারণ নয়। এর ফলে দরজা ভেঙে ফেলা এবং শুধুমাত্র অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় একজন মানুষকে হাতকড়া পরানোর মতো অস্বাভাবিক পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।
অধিকার সংস্থাগুলোর স্বস্তি
এদিকে শরণার্থী ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।
শরণার্থী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন প্রো আসিল (Pro Asyl) এবং সোসাইটি ফর সিভিল রাইটস (Gesellschaft für Freiheitsrechte) বলেছে…
এই রায় সরকারকে তার অভিবাসন নীতিতে মানবাধিকারকে সম্মান করার শিক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
সোসাইটি ফর সিভিল রাইটস এর আইনজীবী জারা লিংকন মন্তব্য করেছেন…
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে বহিষ্কার কোনো “অসীম ক্ষমতার চেক” নয় এবং শরণার্থীদের শোবার ঘর কোনো আইনি শূন্যতা নয়। এটি একটি মৌলিক আশ্রয়ের স্থান, যা সাংবিধানিক অধিকারে বিশেষভাবে সুরক্ষিত।
প্রো আসিল এর ভিবকে ইয়ুডিথ মনে করেন..।
এই রায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি মনে করিয়ে দেয় যে কেউ বহিষ্কারের মুখোমুখি হয়েছেন বলেই তার মৌলিক অধিকারকে উপেক্ষা করা যাবে না।


