ইতালি দীর্ঘ সময় ধরে শিকল বাঁধা অভিবাসন বিরোধী অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশটি এমন এক সংকটের মুখোমুখি যে, শ্রমবাজারের ঘাটতি ও পেনশন ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রায় অবস্থার কারণে, সরকার বাধ্য হয়ে অভিবাসীদের কথা ভাবছে।
ইতালিতে জনসংখ্যার গঠন দ্রুত বদলায়। বৃদ্ধ জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং একই সঙ্গে জন্মহার (নবজাত শৈশব) কমে গেছে; এর ফলে কাজের বয়সী জনসংখ্যা কমছে। পাশাপাশি, দেশটির তরুণরা ইতালি ছেড়ে অন্য দেশে কাজ বা বসবাসের খোঁজে পাড়ি জমান। এই মিলে দেশ এখন অভূতপূর্ব জনসংখ্যাগত সংকটে পেনশন নির্ভর বয়স্কদের সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু শ্রমশক্তি কম দেখা যাচ্ছে। এর ফলে, পেনশন সিস্টেম (অবসর্পন ভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা) এবং শ্রমবাজার উভয়ই “ধাপে ধাপে ধ্বংসপ্রায়” হয়ে পড়েছে।
অভিবাসী শ্রমিক ইতিমধ্যেই ইতালির শ্রমশক্তির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ; অভিবাসীরা স্বাস্থ্য, শিল্প, নির্মাণ, পরিষেবা নানা খাতে কাজ করে আসছে। ২০২৫ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য কাজের অনুমোদন (work visa / quota-based) বেশ নমনীয় এবং দ্রুত প্রক্রিয়াভুক্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, ইতালি এখন বুঝেছে: দেশ চালাতে এবং বয়স্কদের পেনশন দিতে যদি হয়, তাহলে বিদেশি শ্রমশক্তি ছাড়া বিকল্প প্রায় নেই। তাই আগের “অভিযুক্ত” ধৰ্মনিরপেক্ষ অভিবাসনবিরোধী নীতি থেকে একটি বাস্তবিক, প্রয়োজন চালিত নীতি পরিবর্তনে যেতে হচ্ছে।
এমতবস্থায় অভিবাসীদের কাজ দেওয়া দেশকে সাময়িকভাবে শ্রমসংকট থেকে একটু শিথিল করতে পারে। কিন্তু এটি সমাজের দিক দিয়ে একটা বড় চ্যালেঞ্জও হয়ে উঠতে পারে: নতুন অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সমন্বয়, ভাষা, বেসিক পরিচয়, বসবাস এসব রূপায়নের জন্য প্রস্তুতি দরকার। অন্যদিকে, অভিবাসন যখন অর্থনৈতিক একটা প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন অনেকে যেতে পারেন ভুল প্রলোভন, বঞ্চনা ও শোষণের পথে; বিশেষ করে যখন অভিবাসীরা প্রশাসনিকভাবে পুরোপুরি সংহত নয়। এমন ভয় রয়েছে।
ইতালি যদি এই নতুন অভিবাসন-ভিত্তিক নীতি চালিয়ে যায়, তাহলে এটা হতে পারে শুধু একটি স্বল্পমেয়াদী শ্রম মেটানোর উপায় নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য, অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি বড় পরিবর্তন। তবে, সেই পরিবর্তন সফল করতে হবে দায়িত্বশীল প্রশাসন, সুষ্ঠু নিয়োগ এবং সামাজিক নীতি সহ যাতে শুধু কাজ পাওয়া না যায়, বরং কাজ, মানুষের মর্যাদা ও স্বীকৃতি পাওয়া যায়।


