ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অবশেষে স্বীকার করে নিলেন যে, এই মুহূর্তে সামরিক জোট ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের কোনো সম্ভাবনা নেই। ইউক্রেনের জন্য এই জোটে অন্তর্ভুক্তির আকাঙ্ক্ষা ন্যায্য হলেও, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো পশ্চিমা দেশ আপাতত কিয়েভকে জোটে দেখতে প্রস্তুত নয়। প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে ইউক্রেনের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইউক্রেনীয় সংবাদ ওয়েবসাইট ‘স্ট্রানা’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গত মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জেলেনস্কি তার হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা বাস্তববাদী। আমরা সত্যিই ন্যাটোতে যোগ দিতে চাই, এটা ন্যায্য। কিন্তু আমরা নিশ্চিতভাবে জানি, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশ এখনো ইউক্রেনকে জোটে দেখতে চাচ্ছে না। রাশিয়া অবশ্যই আমাদের সেখানে কখনো দেখতে চাইবে না।
প্রেসিডেন্টের এই স্বীকারোক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত চলছে এবং ন্যাটো সদস্যপদ কিয়েভের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মূলত ন্যাটো জোটে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টাকেই রাশিয়া, ইউক্রেনে আগ্রাসনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়েছিল।
ন্যাটোতে যোগদানের অনিশ্চয়তা স্বীকার করার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে একটি নির্বাচন প্রস্তুত করা সম্ভব হতে পারে।
প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশে নির্বাচন আয়োজন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে যখন সামরিক আইন জারি থাকে, তখন সাধারণত নির্বাচন স্থগিত থাকে।
তবে, ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রধান ওলেগ ডিডেনকো এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার পরও নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিন মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এর কারণ হলো, যুদ্ধের কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কির দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের মন্তব্যটি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সচল রাখার দিকে ইঙ্গিত করে। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং ইউক্রেনের নির্বাচন কমিশনের পূর্বের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে, ৬০-৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন প্রস্তুত করার বিষয়টি বাস্তবসম্মতভাবে কতটা কঠিন হবে, তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।
জেলেনস্কির মন্তব্য ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তাকেই আরও স্পষ্ট করল। পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থন সত্ত্বেও, রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্য হিসেবে গ্রহণ করতে দ্বিধাগ্রস্ত। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এই বাস্তববাদী অবস্থান কিয়েভের পররাষ্ট্রনীতিতে একদিকে যেমন, পরিবর্তন আনতে পারে। অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি ইঙ্গিত দেয় যে, ইউক্রেন সামরিক সংকটের মধ্যেও গণতান্ত্রিক কাঠামো বজায় রাখতে বদ্ধপরিক।।


