বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের প্রভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে করোনাকালের অম্লমধুর অভিজ্ঞতা থেকে অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের লার্নিং গ্যাপ বা শিখন ঘাটতি এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি; এই অবস্থায় আবারও অনলাইনে ফিরলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
শিক্ষার্থীরা মনে করছে, সরাসরি শ্রেণিকক্ষের মতো মনোযোগ ও গুরুত্ব অনলাইনে পাওয়া সম্ভব নয়। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাসের দোহাই দিয়ে ইন্টারনেটে অন্যান্য কাজে লিপ্ত হয়, যা তাদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটায়। অন্যদিকে, অভিভাবকরা বলছেন যে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশের জন্য স্কুল অপরিহার্য। হুটহাট এমন সিদ্ধান্ত শিশুদের মেধার বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর বিভাগের অধ্যাপক নূর-এ-আলম সিদ্দিকী জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য স্কুল বন্ধ না করে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, স্কুলের সময় এগিয়ে এনে ‘দিনের আলো’র সর্বোচ্চ ব্যবহার করা উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন, “স্কুল বন্ধ করলে শিশুদের ২১ শতকের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে না। করোনাকালের লার্নিং গ্যাপ আমরা এখনও বহন করছি।” তিনি আরও যোগ করেন, সরকার যদি একান্তই অনলাইনে যেতে চায়, তবে আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি না হয়।


