বিশ্বের বায়ুমান নিয়ে কাজ করা সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা আইকিউএয়ার তাদের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউরোপের পরিবেশ নিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরো ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে মাত্র তিনটি দেশ— আন্দোরা, এস্তোনিয়া এবং আইসল্যান্ড— বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ বায়ুমান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। বাকি দেশগুলোতে দূষণের মাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে রেকর্ড পরিমাণ দাবানল এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়াকে দায়ী করা হয়েছে।
আইকিউএয়ার-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে ইউরোপের ২৩টি দেশে বায়ু দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকার দাবানলের ধোঁয়া এবং আফ্রিকা থেকে আসা সাহারার ধূলিকণার প্রভাবে সুইজারল্যান্ড ও গ্রিসের মতো দেশগুলোতে দূষণ ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে মাল্টা। জীবাশ্ম জ্বালানি ছেড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ঝুঁকে পড়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টায় দেশটি তাদের বায়ু দূষণ প্রায় ২৪ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের (৫ µg/m³) বেশি PM2.5 কণা থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইউরোপের অধিকাংশ বড় শহর বর্তমানে এই সীমার বাইরে অবস্থান করছে। এমনকি রিয়েল-টাইম তথ্য অনুযায়ী, প্যারিস এবং লন্ডন বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলোর তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস অ্যাটমোস্ফিয়ার মনিটরিং সার্ভিস সতর্ক করেছে যে, কৃষি খাতের অ্যামোনিয়া নির্গমন এবং স্থবির আবহাওয়ার কারণে জার্মানি, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আগামী দিনগুলোতে বায়ুর মান আরও খারাপ হতে পারে।
পরিবেশবাদীরা বলছেন, বায়ুমান পর্যবেক্ষণের এই তথ্যগুলো ইউরোপের ‘গ্রিন ডিল’ ও জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ধূলিকণা এবং অভ্যন্তরীণ শিল্পকারখানার নির্গমন মোকাবিলায় ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায়, বায়ু দূষণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আগামীতে আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


