ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিমালা প্রধান কাজা কাল্লাস অভিযোগ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোকে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন চায় না ইউরোপ একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে থাকুক, কারণ এককভাবে ইউরোপীয় দেশগুলো দুর্বল এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য।
কাল্লাস মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইইউ-র সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে চায়। তিনি এই কৌশলকে ইউরোপের শত্রুদের অনুসৃত পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি মোকাবিলা করতে ইউরোপের সব দেশকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ব্রাসেলস ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে ‘খুব জটিল’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ইউরোপকে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার কথা ভাবতে হবে।
কাল্লাস জোর দিয়ে বলেন যে, ইউরোপের উচিত নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং একক কোনো উৎসের (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের) ওপর নির্ভর না করে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা।
কাল্লাসের এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট হিসেবে গত ৫ ডিসেম্বরে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল’-এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। সেখানে সতর্ক করা হয়েছিল যে, আগামী ২০ বছরে ইউরোপ সভ্যতা ধ্বংসের কিনারায় পৌঁছাতে পারে। মার্কিনী ওই প্রতিবেদনে ইউরোপের অর্থনৈতিক ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইউরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ‘নির্ভরযোগ্য মিত্র’ হিসেবে পাওয়া অপরিহার্য।
ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে তাদের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক ধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকি এবং একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। কাজা কাল্লাসের এই সাক্ষাৎকার তারই একটি কড়া কূটনৈতিক জবাব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


